‘ইত্যাদি’র প্রতি পর্বেই আলোকিত মানুষের খোঁজ দেওয়া হয়। এবারের পর্বেও এর ব্যতিক্রম ছিল না। ভুরুঙ্গামারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই মাস্টারকে এবারে ‘ইত্যাদি’ তুলে নিয়ে এল দর্শকদের চোখের আলোয়। গত ৪ অক্টোবর প্রচারিত ‘ইত্যাদি’ প্রচার হয় খুলনা শহরে। মূলত দেশের বিভিন্ন বিভাগে ‘ইত্যাদি’ প্রচার হলেও এই একটি বিভাগীয় সদরই যেন বাকি ছিল। খুলনার ইত্যাদি যেন সারাদেশের কোটা পূরণ করল। বোকা বাক্সের ফ্রেমবন্দির বাইরে সারাদেশের নান্দনিক চিত্র তুলে ধরার যে নিরলস চেষ্টা তারা করছেন তাতে যেন শতভাগ সফল। যার অনুকরণে এখন অনেকেই সেট আর স্টুডিওর বাইরে উন্মুক্ত স্থানে অনুষ্ঠান নির্মাণের আইডিয়ার খোঁজে মাথা চুলকাচ্ছেন। ঠিক এরইমধ্যে ধারাবাহিকভাবে সারাদেশের অধিকাংশ দৃষ্টিনন্দন স্থানে শুধু সেট ফেলে অনুষ্ঠানই নয়, একই সাথে এলাকার ইতিহাস, এলাকার সাদা মনের মানুষসহ পুরো একটুকরো বাংলাদেশকে উপস্থাপন করছেন নিজস্ব ঢঙে। এবারের পর্বেও যেমনটি ছিল ভুরুঙ্গামারীর আবদুল হাই মাস্টারের ওপর করা প্রতিবেদনটি। এ ছাড়া ছিল খুলনার বটিয়াঘাটা থানার কইয়াবাজারের কমলেশ মল্লিকের ওপর উদ্বুদ্ধকরণ একটি প্রতিবেদন। এতে আমরা দেখেছি একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষ কীভাবে মেধা খাটিয়ে তার অক্ষমতাকে জয় করেছেন। এ দুটির পাশাপাশি বাচ্চাদের স্কুলে যাওয়ার বিড়ম্বনা নিয়ে প্রচার হওয়া সচিত্র প্রতিবেদনটিও সত্যিকার অর্থেই দুর্দান্ত। এর বাইরে নিয়মিত মামা-ভাগ্নে বা নানী-নাতি পর্বের ভেতরে সামাজিক অসঙ্গতিগুলো চোখে আঙুল দিয়ে উপস্থাপন করছেন প্রতিনিয়ত। তবে এলাকাভিত্তিক শিল্পী খুঁজতে গিয়ে হয়তো নির্মাতাকে মানের দিক বিবেচনায় কিছুটা ছাড় দিতে হয় বৈকি। এরপরও টিপু, মেজবাহ আর পলাশের এক মঞ্চে পরিবেশনা ছিল মনকাড়ার মতো। তবে ‘ইত্যাদি’র নির্মাতার প্রতি আবেদন থাকবে দীর্ঘ জনপ্রিয়তা ধরে রাখার এই যজ্ঞে আগামী কোনো পর্ব খোলা আকাশের নিচে দিনের আলোয় ধারণ করা হোক। হয়তো তাতে আলোকসজ্জার মুন্সিয়ানা কিছুটা কম থাকবে, তারপরও নতুনভাবে মুক্ত আকাশের নিচে স্বচ্ছ সূর্যের আলোখেলার ‘ইত্যাদি’ দেখার প্রত্যাশা রইল। দেশের বরেণ্য মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেতের কাছে এই প্রত্যাশাটুকু নিশ্চয়ই অযৌক্তিক হবে না। সবশেষে বিশাল আয়োজনের এই অনুষ্ঠান শুধু নির্মল বিনোদনই দিচ্ছে না। প্রতিনিয়ত নিজেদের বিবেকবোধের জায়গাগুলো নাড়িয়ে দিচ্ছে ক্রমশ। পুরো অনুষ্ঠানের রিভিউ করতে গেলে তাই সার্বিকভাবে এটুকুই বলতে হয়। ‘ইত্যাদি’ তার নিজস্ব ধারায় এগিয়ে যাক।
