গত শতকের ষাটের দশকে প্রথম নারী নির্মাতা হিসেবে চলচ্চিত্রকার রেবেকা ‘বিন্দু থেকে বৃত্ত’ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। এরপরে সত্তরের দশকে আর কোন নারী নির্মাতার আবির্ভাব ঘটেনি। আশির দশকের দিকে সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়েও চলচ্চিত্র নির্মাণে এগিয়ে আসেন বেশ ক’জন নারী নির্মাতা। এরপরের চারটি দশকে নারী নির্মাতারা নির্মাণ করেছেন অনেকগুলো কাহিনীচিত্র, প্রামাণ্যচিত্র ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। সেসব দেশে ও বিদেশে বেশ আলোচিত হয়েছে। পেয়েছে সম্মাননা। সেসব ছবি নিয়ে শুরু হলো নারী নির্মাতাদের চলচ্চিত্র উত্সব। ১৯৭২ সাল থেকে চলমান সময় পর্যন্ত ২২ নারী নির্মাতার ৩১টি ছবি নিয়ে সাজানো হয়েছে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এ উত্সব। যৌথভাবে উত্সবের আয়োজন করছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও ম্যুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটি। রবিবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমীর চিত্রশালা মিলনায়তনে ৬ দিনব্যাপী উত্সবের উদ্বোধন করা হয়।
প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে উত্সবের সূচনা হয়। উদ্বোধনী আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী। বিশেষ অতিথি ছিলেন চলচ্চিত্রকার মোরশেদুল ইসলাম। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন শিল্পকলা একাডেমীর নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক সারা আরা মাহমুদ। স্বাগত বক্তব্য দেন ম্যুভিয়ানার সভাপতি বেলায়েত হোসেন মামুন। সভাপতিত্ব করেন একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।
গতকাল সন্ধ্যায় জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে প্রদীপ প্রজ্বলন করে এই উত্সবের উদ্বোধন করেন ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী। শিল্পকলা একাডেমীর ও ম্যুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটির যৌথ আয়োজনের এই উত্সবের উদ্বোধনী সন্ধ্যায় গতকাল প্রদর্শিত হয় তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদের যৌথভাবে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘মুক্তির গান’ ও তারেক মাসুদ ও শামীম আখতারের যৌথ নির্মাণের চলচ্চিত্র ‘সে’।
এর আগে উত্সবের উদ্বোধক ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী বাইশজন নির্মাতার হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন। সম্মাননা ক্রেস্টপ্রাপ্ত নারী নির্মাতারা হলেন-সারাহ বেগম কবরী, কোহিনূর আক্তার সুচন্দা, শামীম আখতার, ক্যাথরিন মাসুদ, ইয়াসমিন কবির, নার্গিস আক্তার, আরিফা পারভীন জামান মৌসুমী, সামিয়া জামান, ফৌজিয়া খান, রোকেয়া প্রাচী, শাহনেওয়াজ কাকলী, শবনম ফেরদৌসি, রেশমী আহমেদ, নাসরিন সিরাজ এ্যানী, শামীমা বিনতে রহমান, হুমায়রা বিলকিস, সৈয়দা নিগার বানু, উম্মুল ফাতেমা পুষ্প, আরাত্রিক বকশী, অদ্রি হূদয়েশ, তাসমিয়া আফরিন মৌ ও সুমাইয়া ইসলাম। আগামী ১১ অক্টোবর শেষ হবে ছয়দিনব্যাপী এই উত্সব।
নৃত্যাঞ্চলের রায়বেঁশে নৃত্য : নৃত্যাঞ্চলের আয়োজনে রায়বেঁশে নৃত্যের প্রশিক্ষণ কর্মশালার সনদপত্র প্রদান উপলক্ষে গতকাল সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে পরিবেশিত হয়েছে রায়বেঁশে নৃত্য। নৃত্যানুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন ড.তরুণ প্রধান। এর আগে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন নৃত্যশিল্পী শিবলী মোহাম্মদ। কর্মশালা প্রসঙ্গে বিস্তারিত তুলে ধরেন শামীম আরা নীপা। অনুষ্ঠানে কর্মশালায় উত্তীর্ণদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
শিল্পকলায় আজ শুরু হচ্ছে তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা:‘দেশজ সংস্কৃতির বিকাশ ও আন্তর্জাতিক সংস্কৃতির সাথে মেলবন্ধন’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় আজ শিল্পকলা একাডেমীতে শুরু হচ্ছে তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা। জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে শুরু হতে যাওয়া এই অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনী সন্ধ্যায় আজ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। অনুষ্ঠানের প্রথমদিন দশটি নৃত্যের সমন্বয়ে আজ অনুষ্ঠিত হবে নৃত্য উত্সব। কাল দ্বিতীয়দিনের অনুষ্ঠানসূচিতে রয়েছে সারাদেশ থেকে বাছাইকৃত ২শ’জন প্রতিভাবান শিল্পীর অংশগ্রহণে নির্মিত ২০টি অডিও অ্যালবামের প্রকাশনা ও উদীয়মান নির্মাতাদের তৈরি বিষয়ভিত্তিক আটটি মডেল অনুষ্ঠানের প্রদর্শন। শেষদিন ১০ অক্টোবর ‘যন্ত্রসঙ্গীতে ঐকতান’ শীর্ষক যন্ত্রসঙ্গীতের অনুষ্ঠান। এই আয়োজনে যন্ত্রসঙ্গীত পরিবেশন করবে সানী জুবায়ের, সুনীল চন্দ্র দাস, রেজোয়ান আলী, মো: মনিরুজ্জামান ও ড.সাইম রানা।
গতকাল একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্য জানান একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।
কোরিয়ান দূতাবাসের কনসার্ট : বাংলাদেশ ও কোরিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্কের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ধারাবাহিক অনুষ্ঠানের অংশ হিসাবে গত শুক্রবার শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালায় অনুষ্ঠিত হলো ‘চার্ম অব কোরিয়া : মিরাকল অব মিউজিক ২০১৩’ শীর্ষক কনসার্ট। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী জি এম কাদের। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি ইউ ইয়ং। কনসার্টে কোরিয়ার সাতজন শিল্পী সঙ্গীত পরিবেশন করে।
