পোল্ট্রি, ডেইরি ও কৃষি বর্জ্যের মাধ্যমে বিদ্যুত্ উত্পাদন করলে নতুন ধারার সূচনা হতে পারে। বিশেষ করে পোল্ট্রি খামারের বর্জ্য দিয়ে বায়োগ্যাস তৈরি ও বিদ্যুত্ উত্পাদন দুই’ই সম্ভব।
পাক্ষিক পত্রিকা এনার্জি এন্ড পাওয়ার ও জার্মান উন্নয়ন সহযোগী জিআইজেডের উদ্যোগে রবিবার সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের বায়োগ্যাস থেকে ক্যাপটিভ বিদ্যুত্ উত্পাদনের সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা একথা বলেন।
বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বায়োগ্যাস উত্পাদন ও সম্প্রসারণে সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। সরকারের কঠোর উদ্যোগের কারণে এখন ৮৭ ভাগ শিল্পে ইটিপি (এনভায়রনমেন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) বসাতে বাধ্য করা হয়েছে। আগে মাত্র ২৭ ভাগ শিল্পে ইটিপি ছিলো। তিনি বলেন, গবেষণা ছাড়াই যখন অহেতুকভাবে সমালোচনা করে রিপোর্ট প্রকাশ করা হয় তখন মর্মাহত হই। জলবায়ু তহবিল থেকে পল্ল¬ী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এনজিওকে অনুদান দেয়ার বিষয়ে টিআইবির প্রতিবেদন ভুল ছিল।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জিআইজেড-এর সিনিয়র এডভাইজার দিলদার আহমেদ তৌফিক। তিনি বলেন, বায়োগ্যাস প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের পোল্ট্রি খামার থেকে ৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুত্ উত্পাদন সম্ভব। এরইমধ্যে এই ধরনের বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট থেকে দুই মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদিত হচ্ছে। দেশের জ্বালানি ঘাটতির এই সময় বায়োগ্যাসের বিকাশ অনেক সহায়তা করতে পারে।
পাক্ষিক এনার্জি এন্ড পাওয়ার পত্রিকার সম্পাদক মোল্লাহ আমজাদ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ফিনিক্স এগ্রোর চেয়ারম্যান সামিউল আহসান, কাজী ফার্মা’র প্রধান প্রকৌশলী শেখ নাসির উদ্দিন ও ইডকোলের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার এসএম মনিরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশে বায়োগ্যাস থেকে বিদ্যুত্ উত্পাদনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধান অন্তরায় হচ্ছে বায়োগ্যাস থেকে উত্পাদিত জৈব সার বাজারজাতকরণে জটিলতা। এ খাতের উন্নয়ন করতে হলে সহজশর্তে ঋণ দেয়া ও বিদেশ থেকে যন্ত্রপাতি আমদানিতে কর মওকুফ করা প্রয়োজন।
