মু খো মু খি
আজ স্টার সিনেপ্লেক্স ১০ বছরে পদার্পণ করছে। এ দেশীয় শহুরে সিনেমা দর্শকদের আন্তর্জাতিক মানে সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা জুগিয়েছে বসুন্ধরা স্টার সিনেপ্লেক্স। এরপরও রয়ে গেছে কিছু অসঙ্গতি বা সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কিছু প্রশ্ন। সেই বিষয়গুলো নিয়েই বিনোদন প্রতিদিনের মুখোমুখি হয়েছেন স্টার সিনেপ্লেক্সের চেয়ারম্যান মাহবুব রহমান। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন তানভীর তারেক
১০ বছরে পা দিল স্টার সিনেপ্লেক্স, নতুন কী পাবে দর্শকেরা?
আমরা সবগুলো সিনেমা হলকেই নতুনভাবে সাজিয়েছি। শুরুর দিকে কিছুটা অসংলগ্নতা থাকলেও এখন আমাদের সাউন্ড ও পিকচার কোয়ালিটি সম্পর্কে বলব, এ মানের সিনেমা হল পৃথিবীতে এখন হাতে গোনা রয়েছে।
এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময়ে আপনাদের নিয়ে একটা খুব কমন অভিযোগ রয়েছে যে, আপনারা বিদেশি ছবি যেভাবে প্রমোট করেছেন সেই অর্থে বাংলা ছবিকে প্রমোট করেননি। এ প্রসঙ্গে আপনি কী বলবেন?
আমি বলব এই তথ্যটা একেবারেই ভুল। কারণ শহুরে দর্শকদের নতুন করে সিনেমা হলে ফিরিয়েছি আমরাই। সেই অর্থে এই আন্দোলনে আমরা সফল। কারণ ‘মোল্লা বাড়ির বউ’, ‘মনপুরা’ থেকে শুরু করে সর্বশেষ ‘চোরাবালি’ বা ‘নিঃস্বার্থ ভালোবাসা’ আমরা প্রতিদিন হাউজফুল শো করেছি। এই দর্শকেরা আমাদের পরিবেশ, প্রজেকশন কোয়ালিটি এবং অবশ্যই সিনেমার কোয়ালিটির জন্যই দেখতে আসছে।
কিন্তু এরপরও আলাদা করে বাংলা সিনেমার জন্য ডেডিকেটে করা হল সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম নয় কি? এই সংখ্যা আরও বাড়ানো উচিত বলে মনে করেন কি?
বিষয়টি নিয়ে আমাদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই। এখন ভালো মানের ছবি হতে হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই, আমাদের অধিকাংশ হলে বাংলা ছবিগুলোই চলুক। কিন্তু আমাদের তো টু কে রেজ্যুলেশনের ছবি হতে হবে, ছবির গল্পেও আধুনিকতা থাকতে হবে। এরপরও আমরা তারেক মাসুদ সপ্তাহ পালন করেছি কোনো রকম বেনিফিট ছাড়াই নৈতিকতার প্রশ্নে, বাংলা ছবিকে প্রমোট করার স্বার্থেই। আমরা মনে প্রাণে চাই বিদেশির পাশাপাশি বাংলা চলচ্চিত্রকে প্রমোট করতে।
সেক্ষেত্রে এখন যে হারে সব ডিজিটাল ছবি নির্মাণ করা হচ্ছে, তাদের মতে তো সব ছবিই আপনাদের প্রদর্শনীর যোগ্য। কিন্তু সেই অর্থে কি আপনারা প্রদর্শন করছেন বা করতে পারছেন? একই সাথে ডিজিটাল তকমা লাগানো ‘জ্যাজ’ প্রোডাকশন তাদের প্রতিটি ছবির ট্যাগলাইনে টু কে রেজ্যুলেশন বা সর্বাধুনিক ডিজিটাল ছবির দাবি তোলেন। তাদের ছবিও আপনারা প্রদর্শন করেননি।
এখানে খানিক বিভ্রান্তি আছে। কারণ জ্যাজের সাথে আমরা আলোচনায় বসেছিলাম। তারা যতই বলুক টু কে রেজ্যুলেশন বা অত্যাধুনিক ডিজিটাল ছবি, আসলে কিন্তু তা নয়। এ কারণেই মানের প্রশ্নে আমরা প্রদর্শন করতে পারিনি। কারণ একটা বড় আস্থার জায়গা অর্জন করেছি আমরা দর্শকদের মাঝে। এটি অর্জন করতে আমাদের ১০ বছর লেগে গেছে। আমরা চাই না, সেই আস্থা নষ্ট করে একটি ছবি প্রচার শুরু করেই আবার সপ্তাহ না যেতেই তা নামিয়ে ফেলব।
এবারে আসি বিদেশি চলচ্চিত্র প্রসঙ্গে। ইংরেজি ছবি প্রচারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক রেটিং হওয়া সত্ত্বেও আপনাদের দেশীয় সেন্সর করতে হয়, সেক্ষেত্রে আপনাদের কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয় কি না? এ ছাড়া ‘স্কাইফল’ বা ‘আয়রন ম্যান’ ছবিগুলোতে যে সেভেন পয়েন্ট ওয়ান সাউন্ড কোয়ালিটি থাকে... সেই মানে আপনারা প্রদর্শন করতে পারেন কি না?
আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরটা আমি আগে দিই। কারণ আগেই বলেছি, আমরা এখন হলিউড কেন বিশ্বের সেরা ৫০টি থিয়েটারের একটি। আর সেন্সরের ক্ষেত্রে তো একটা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা তৈরি হয়েই আছে। এ কারণে আমরা চাইলেও ১ থেকে ২ সপ্তাহ পিছিয়ে যাই। এরপরও আমরা হলিউডে রিলিজের আগেই ‘ডায়না’ ছবিটি রিলিজ দিয়েছি। কারণ তারা আমাদের ওপর আস্থা রেখেছে। ভবিষ্যতে এই জটিলতা দূর হলে আমরা হলিউড বক্স অফিসের সাথে একযোগে রিলিজ দিতে পারব।
খুব সম্প্রতি ব্লকবাস্টার নামে নতুন আরও একটি মাল্টিপ্লেক্স চালু হয়েছে। আপনার কি মনে হয়, এটা স্টার সিনেপ্লেক্সের একচেটিয়াত্বকে কিছুটা হলেও ম্লান করবে?
আমার কাছে তা মোটেও মনে হয় না। কারণ এই মুহূর্তে সারা দেশের সবক’টি বিভাগে তো অবশ্যই এমনকি ঢাকাতেও আরও কয়েকটি উন্নত মাল্টিপ্লেক্সের ডিমান্ড রয়েছে। কারণ গুলশান-বনানীর দর্শকেরা ট্রাফিক জ্যাম পেরিয়ে আাামাদের এখানে আসতে কখনোই আগ্রহী ছিলেন না।
আপনারা ক্রমাগতভাবে চড়ামূল্যে বিদেশি ছবি ইমপোর্ট করছেন। আমাদের চলচ্চিত্র দেশের বাইরে এক্সপোর্ট করার বিষয়টি কী আপনাদের ভাবনায় কখনো আসে না?
তা তো আসেই। আপনাকে বলে রাখি আমরা তো বর্তমানে নিজেরাই বাংলা ছবিতে লগ্নি শুরু করেছি। তাই এরই ভেতরে মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া থেকে শুরু করে বেশ কয়েকটি দেশে আমাদের ছবি এক্সপোর্টের ব্যাপারে কথা বলছি। তাই সেদিন আর বেশি দূরে নয়, যখন বাংলা ছবি বাইরে এক্সপোর্ট হবে। কারণ এখন সারা বিশ্বে বাঙালিরা ছড়িয়ে আছেন। এ ক্ষেত্রে আমি বলব আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে উঠে সনি, ডিজনিসহ বিভিন্ন এজেন্সি যারা সারা বিশ্বে ছবি প্রদর্শনীর যে কাজটা করে থাকে, তাদের সাথে আলোচনায় আসা উচিত।
শেষ প্রশ্নে জানতে চাইব, ভারতীয় চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর ব্যাপারে আপনার মতামত কী?
এ ব্যাপারে আমাদের খোলামেলা মত হলো, মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে সমবণ্টন হলে অবশ্যই ভারতীয় ছবি আসা উচিত। কারণ ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’ যদি ৮৫টি দেশে প্রদর্শিত হতে পারে সেখানে বাংলাদেশ কেন থাকবে না। এখন দেখুন কলকাতায় সরকারিভাবে বাংলাদেশি ছবি প্রদর্শনীতে কোনো অসুবিধা না থাকলেও রেদওয়ান রনির ‘চোরাবালি’ ছবিটি প্রদর্শনী করতে দেয়নি সেদেশের ফিল্ম ফেডারেশন। আমাদের তাই ফেডারেশনের পক্ষ থেকেই প্রস্তাব ওঠা উচিত। সোজা ভাষায় ওদের ছবি ১০টি হলে চললে আমাদের ছবিও ওদের দেশে ১০ হলেই চলতে হবে।
