গতকাল সোমবার প্রকাশিত এটিপির সর্বশেষ র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান হারালেও রাফায়েল নাদালকে হার্ড কোর্টে এ মৌসুমে প্রথম হারটি ঠিকই উপহার দিলেন নোভাক জোকোভিচ। চায়না ওপেনের ফাইনালে গত রোববার রাতে নাদালকে প্রায় উড়িয়ে দিয়ে এই স্প্যানিয়ার্ডের উদ্দেশ্যে যেন একটি চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ে দিলেন সদ্যই এক থেকে দুইয়ে নেমে যাওয়া এই সার্বিয়ান। এদিকে মহিলা এককের ফাইনালে ইয়েলেনা জ্যাঙ্কোভিচকে হারিয়ে বছরের দশম শিরোপা ঘরে তুলেছেন দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটানো সেরেনা উইলিয়ামস। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে রেটিং পয়েন্টের বিচারে জোকোভিচের প্রায় ঘাড়ের উপর নিশ্বাস ফেলছিলেন নাদাল। আর জোকোভিচ এই টুর্নামেন্টের শিরোপাধারী হওয়ায় সমীকরণটা ছিল এমন যে, নাদাল যদি কেবল ফাইনালে পৌঁছাতে পারেন তাহলে ২০১১’র জুলাইর পরে আবারো পুরুষদের এক নম্বর জায়গাটি দখল করবেন তিনি। সেক্ষেত্রে জোকোভিচ শিরোপা জিতলেন দ্বিতীয় স্থানে থেকেই বছর শেষ করতে হবে তাকে। শেষ পর্যন্ত হলোও ঠিক তাই। নাদালের দুই গ্র্যান্ড স্ল্যামের বিপরীতে এ মৌসুমে কেবল অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা ধরে রাখতে পারা জোকোভিচ বুঝিয়ে দিলেন র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান হারালেও মোটেই ফুরিয়ে যাননি তিনি। মাত্র সপ্তাহ দুয়েক আগেই নবম পুরুষ হিসেবে র্যাঙ্কিংয়ে টানা ১০১ সপ্তাহ শীর্ষে থাকার রেকর্ড গড়া জোকোভিচের সামনে এদিন দাঁড়াতেই পারলেন না নাদাল। মাত্র ৮৭ মিনিট সময় নিয়ে ৬-৩, ৬-৪ গেমে ম্যাচ জিতে শিরোপা ধরে রাখার পাশাপাশি ২৭ বছর বয়সী প্রতিপক্ষকে হার্ড কোর্টে মৌসুমের প্রথম হারটিও উপহার দিলেন জোকার।
পুরো ম্যাচে নিজের সার্ভে মাত্র সাতটি পয়েন্ট খোয়ানো জোকোভিচ জয়ের পরে স্বভাবতই ছিলেন দারুণ উচ্ছ্বসিত, ‘ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে আমি মানসিক সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছি। ঐসব সময়ে মেজাজ না হারানো এবং মনোযোগ ধরে রাখতে পারাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয় মন্ট্রিল এবং ইউএস ওপেনে আমার মধ্যে এ বিষয়গুলো অনুপস্থিত ছিল। ভুল থেকেই আমি শিখেছি।’ এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ক্যারিয়ার সংশয়ী ইনজুরি থেকে ফেরার পর দু’টি গ্র্যান্ড স্ল্যামসহ দশটি শিরোপা জেতা নাদাল এ ম্যাচে কোর্টে নেমেছিলেন হার্ড কোর্টে এ মৌসুমে ২৭-০ রেকর্ড নিয়ে। শুধু তাই নয়, জোকোভিচের সঙ্গে নিজের সর্বশেষ তিনটি হার্ড কোর্ট লড়াইয়েও জয় পেয়েছিলেন তিনিই। তবে এই ম্যাচে পুরনো সেসব হিসাব পাল্টে দিতে পেরে জোকোভিচের আনন্দ যেন বাধ মানছিল না, ‘রাফার বিরুদ্ধে হার্ড কোর্টে তীব্র প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ সেই ম্যাচগুলোতে হারাটা ছিল সত্যিই কষ্টদায়ক। বিশেষ করে ইউএস ওপেনের ফাইনালে হারের বিষয়টি। আজকের জয়টা আমার জন্য খুবই প্রয়োজন ছিল। ট্রফিতে হাত ছোঁয়াতে আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম এবং এখন পর্যন্ত এ বছরের সেরা খেলোয়াড়টিকে হারানোর বিষয়টি তো ছিলই।’
প্রতিপক্ষের শ্রেষ্ঠত্ব বিনা দ্বিধায় মেনে নিলেন নাদালও, ‘আজ (রোববার) বিকালে তাকে থামাতে কোন কৌশলই কাজ করছিল না। আমি জানি আমি মোটেই আমার সেরা ফর্মে ছিলাম না তবে স্বীকার করতেই হবে সে ছিল দুর্দান্ত, বিশেষ করে সার্ভিসের ক্ষেত্রে। তাকে বিপদে ফেলতে আমার কোন চেষ্টাই কাজে আসছিল না।’ এদিকে বছরের ৭৩তম জয় তুলে নেয়ার পথে জ্যাঙ্কোভিচকে ৬-২, ৬-৪ গেমে হারান সেরেনা। এ শিরোপার ফলে নাদালের মতোই দুই গ্র্যান্ড স্ল্যামসহ এ বছর মহিলা এককের শীর্ষ তারকাটির মোট শিরোপার সংখ্যা হলো ১০। আর প্রাইজমানি বাবদ এই আমেরিকানের উপার্জনও ছাড়িয়ে গেল নব্বই লাখ ডলারের ঘর।
