সজীব। কবিতা দিয়ে সাহিত্য জগতে প্রবেশের পর একে একে পাঠকদের উপহার দিয়েছেন উপন্যাস আর ছোটগল্প। ২০১০ সালে একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘হূদয়ে বসন্ত স্বাক্ষর’। পরের বছর প্রকাশিত হল উপন্যাস ‘বর্ষা ভেজা ফাগুন’। আর এ বছর প্রকাশিত হল ছোটগল্পের বই ‘অন্তরালে’।
এভাবেই বারবার নিজেকে ভেঙ্গেছে আর গড়েছে সে। কখনো কবিতায়, কখনো উপন্যাসে আবার কখনো ছোটগল্পে। গীতিকার হিসেবেও আত্মপ্রকাশ ঘটেছে বেশ কিছুদিন হল। সম্প্রতি বেশ জনপ্রিয় হওয়া চিলেকোঠা ব্যান্ডের গান ‘ফিরবে না’ তারই লেখা। ফিরবে না গানটি এখন প্রায় সব মোবাইল অপারেটরেই টিউন হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে।
কিছুদিন আগে রেডিও টুডেতে একদিনের আরজেতে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী হিসেবে পরিচিত সজীব প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে জায়গা করে নিয়েছিলেন।
রংপুর জিলা স্কুল থেকে ২০০৫ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন। ২০০৭ সালে রংপুর সরকারি কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে উচ্চ মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হয়ে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি ফিশারিজ অনার্স কোর্সে ভর্তি হয়েছেন। সজীবের খেলাধুলায়ও আছে বেশ কিছু অর্জন। ২০০৪ সালে আন্তঃস্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টে রংপুর জিলা স্কুলের পক্ষে অংশগ্রহণ করে দলীয়ভাবে রানার্স আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। ২০০৭ সালে আরএনসিসি ক্লাবের পক্ষে ৩য় বিভাগ ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেন।
১৯৮৯ সালে রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া থানার উত্তর কোলকোন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করা সজীবের পুরোনাম আবুল খায়ের সজীব। তবে সজীব নামেই সমধিক পরিচিত। বাবা আব্দুর রহমান অগ্রণী ব্যাংকে চাকরিরত। মা শেফালী বেগম গৃহিণী। তিন ভাইয়ের মধ্যে সজীবই বড়। সাহিত্য, গান আর খেলার পাশাপাশি সজীব ভ্রমণপিপাসু। অবসর পেলেই ছুটে যায় সাগর কিংবা পাহাড়ের কাছে।
সজীবের জীবনের লক্ষ্য একজন সাধারণ মানুষ হওয়া। জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে সজীব ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি এনে বলেন, সাধারণ সবসময়ই অসাধারণ।
