রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সংকট কাটছে না। দীর্ঘ ৬ মাস ধরে এ সংকট চলে আসছে। একের পর এক আইনি প্রক্রিয়ায় লড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ নিয়েও সংকটে বিশ্ববিদ্যালয়টি। রেজিস্ট্রার নিয়োগ নিয়েও উচ্চ আদালতে আইনি প্রক্রিয়ায় লড়ছে কর্তৃপক্ষ। শিক্ষক ও রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মোট ৩ টি মামলা ঝুলে আছে উচ্চ আদালতে।
গত ২৭ আগস্ট রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ডেপুটি রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল ফারুক হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া ৬ মাসের জন্য স্থগিত আদেশ দেন। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্থগিত আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগও হাইকোর্টের স্থগিত আদেশ বহাল রাখে। এরই মধ্যে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল ফারুককে কেন হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেছেন এবং তা কেন অসদাচরণ হবে না এমন অভিযোগ আমলে নিয়ে শোকজ নোটিস দেয়া হয়েছে। চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল ফারুক উক্ত শোকজ নোটিসের বিরুদ্ধে গত ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন। হাইকোর্টে শুনানি শেষে নিয়োগ প্রক্রিয়ার কার্যক্রম স্থগিত আদেশ দেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের উপর রুলজারি করেন।
এ বিষয়ে চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল ফারুকের আইনজীবী ড. রফিকুল ইসলাম মেহেদী জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অজ্ঞতা অথবা শত্রুতাবশত এ ধরনের শোকজ প্রদান করে থাকতে পারেন। রেজিস্ট্রার নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়মের সম্ভাবনা থেকেই আমার মক্কেল রিট পিটিশন দাখিল করে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। এর আগে শিক্ষক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দু’বার হাইকোর্টে রিট প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র এম এ উজ্জল আহম্মেদ লিটন। যা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
এদিকে চলমান নিয়োগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহলে সৃষ্টি হয়েছে কোন্দল। ক্ষমতাসীন দলের মধ্যেও সৃষ্টি হয়েছে বিতর্ক। সম্পূর্ণ দলীয় চিন্তায় দেয়া হচ্ছে জনবল নিয়োগ এমন অভিযোগ করেছেন একাধিক শিক্ষক কর্মকর্তা। তাদের ভাষায়, বাজেট ঘাটতি থাকার পরও জনবল নিয়োগের কোন ঘাটতি নেই। এমতাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়টি ভবিষ্যতে আরো বাজেট ঘাটতিতে পড়বে বলে আশঙ্কা করেছেন শিক্ষক কর্মকর্তারা। এ ব্যাপারে বিএনপিপন্থি সাদা দলের শিক্ষক এবং আওয়ামীপন্থি নীল দলের একাধিক শিক্ষক তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
