গবেষণার নতুন দিগন্ত

ম্যালেরিয়ার ভ্যাকসিন উদ্ভাবন

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৩, ২১:১৪
প্রথম ম্যালেরিয়ার ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেছে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্ ব্রিটিশ ওষুধ কোম্পানি গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন। কোম্পানি আগামী ২০১৪ সালে ম্যালেরিয়া ভ্যাকসিন বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাতের অনুমোদন চেয়েছে। ইতিমধ্যে ম্যালেরিয়া ভ্যাকসিনের ট্রায়াল আফ্রিকার শিশুদের ওপর সম্পন্ন হয়েছে। আরটিএস নামের এই ভ্যাকসিনটি হবে ম্যালেরিয়ার জন্য বিশ্বের প্রথম ভ্যাকসিন। আফ্রিকার কয়েকটি দেশে এ ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক ব্যবহারে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে একটি আন্তর্জাতিক নিউজ এজেন্সির রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। দীর্ঘ ১৮ মাসের ভ্যাকসিন ট্রায়ালে দেখা যায় আফ্রিকায় শিশু-কিশোরদের ম্যালেরিয়া রোগ সংক্রমণ অর্ধেকে নেমে এসেছে। রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়, ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সি (ইএমএ) গ্লাক্সোস্মিথক্লাইনের ম্যালেরিয়া ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০১৫ সালে ম্যালেরিয়া ভ্যাকসিন ব্যবহারের সুপারিশ করতে পারে। ম্যালেরিয়া হচ্ছে মশাবাহিত এক ধরনের প্যারাসাইটিক ডিজিজ। শিশুরাই এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। প্রতি বছর এই রোগে আফ্রিকাসহ বিশ্বের অনেক দরিদ্র দেশে লক্ষ লক্ষ লোক মারা যায়। বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, একটি কার্যকর ভ্যাকসিনই কেবল এই রোগ থেকে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষকে ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক মেডিক্যাল কনফারেন্সে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। বিল এন্ড মেলিন্দা গেটস ফাউন্ডেশনের অনুদানে নন প্রফিট ইনিসিয়েটিভ হিসাবে গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন ম্যালেরিয়া ভ্যাকসিনের উদ্ভাবন করেছে। ট্রায়াল রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় শিশুদের ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে ভ্যাকসিনটি শতকরা ৬৫ ভাগ কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। এদিকে, বৃটিশ ওষুধ কোম্পানি গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিশ্বের একমাত্র ম্যালেরিয়া ভ্যাকসিনটি অনুমোদন পেলে তারা উত্পাদন খরচ পর্যায়ের মূল্যের চেয়ে মাত্র ৫ শতাংশ প্রফিটে ভ্যাকসিনটি বাজারজাত করবে। আর ম্যালেরিয়া ভ্যাকসিন থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ কোম্পানিটি ম্যালেরিয়া গবেষণায় ব্যয় করবে। বিশেষজ্ঞগণ আশা করছেন ম্যালেরিয়া ভ্যাকসিনটি বিশ্বের লক্ষ লক্ষ ম্যালেরিয়া রোগীর জীবন রক্ষায় সহায়ক হবে। লেখক : চুলপড়া, এলার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ