তালায় অর্ধশত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানিবন্দী

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৩, ২১:২২
তালায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। প্রায় ৮৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ার পাশাপাশি অর্ধশত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠেছে। এর মধ্যে অনেক স্কুলে ক্লাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পার্শ্ববর্তী বাড়িতে ক্লাস চলছে। অনেকেই পচা পানির মধ্যে হেঁটে কিংবা কলার ভেলা বানিয়ে স্কুলে যাচ্ছে। এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে বন্যার্ত এলাকা চরকানাইদিয়া গ্রামে শেখ সামছুর রহমান (৮০) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। চারিদিকে শুধু পানি আর পানি থাকায় তাকে পার্শ্ববর্তী উঁচু ভিটায় দাফন করা হয়েছে। অনেকেই বাড়ি ছেড়ে রাস্তার উপর আশ্রয় নিয়েছে। স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত হয়ে প্রায় অর্ধশত স্কুল পানির নিচে ডুবে আছে। এর মধ্যে রাঢ়ীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,ওমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইসলামকাটি দাখিল মাদ্রাসা,উত্তর ঘোনা প্রাথমিক বিদ্যালয়, খরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নওয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নওয়াপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সোনারবাংলা হাইস্কুল, মাঝিয়াড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সোনাবাঁধাল প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজনগরচক প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুলপোতা প্রাথমিক বিদ্যালয়, দরমুড়াগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পারকুমিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,সমনডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোয়ালপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেড়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তালা টেকনিক্যাল কলেজ, গোনালী অগ্রগামী বালিকা বিদ্যালয়, গঙ্গারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ প্রায় অর্ধশত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কম-বেশি পানির নিচে ডুবে আছে। তালা উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ বাবলু রহমান ও জিএম গোলাম মোস্তফা জানান, জলাবদ্ধতার কারণে স্কুলের কার্যক্রম দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সম্প্রতি কয়েকদিনের টানা বর্ষা আর কপোতাক্ষের উপচানো পানিতে তালা উপজেলার ৮০ টি গ্রামের ১৭ হাজার পরিবারের প্রায় ৮৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভেসে গেছে কয়েক হাজার বিঘার চিংড়ি ঘের ও ফসলের ক্ষেত। মানুষ ও গবাদিপশুর খাদ্য সঙ্কট বেড়েছে। অনেকেই আশ্রয়হীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।