ইচ্ছা পূরণ হলো না মুক্তিযোদ্ধা রশিদের

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৩, ২১:২৩
একাত্তরে জীবনবাজি রেখে দেশ স্বাধীন করার ক্ষেত্রে অবদান রাখলেও জীবন যুদ্ধে পরাজিত এক যোদ্ধার নাম আবদুর রশিদ। দুঃখ-দুর্দশা আর অভাব-অনটন তাকে আঁকড়ে রেখেছিল আমৃত্যু। স্বাধীন দেশে এক চিলতে মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়নি এবং ছেলের চাকরির আশায় বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিয়েও শেষ ইচ্ছা পূরণ হলো না মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রশিদের। জীবন যুদ্ধে ক্লান্ত হয়ে হতাশায় ধুঁকে ধুঁকে গত ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি চলে যান না ফেরার দেশে। জানা যায়, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ২০নং ওয়ার্ডের দিশাবন্দ গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রশিদের জন্ম ১৯৫২ সালের ৯ জানুয়ারি। তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে বড় ছেলে আবদুর রহমান কুমিল্লা আলীয়া মাদ্রাসা থেকে আলীম পাস করে এখন বেকার। অপর ছেলে মো. লিটন ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে এবং মেয়ে কুলসুম আক্তার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত করার প্রবল ইচ্ছা থাকলেও দরিদ্রতার কষাঘাতে দিশাহারা এ মুক্তিযোদ্ধার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেলো। একাত্তরে তিনি যুদ্ধ করেন ২নং সেক্টরের অধিনায়ক খালেদ মোশাররফের অধীনে। স্বাধীনতার পর ৪২ বছর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রশিদের জীবন কেটেছে কেবলই দুঃখ-কষ্ট আর না পাওয়ার বেদনায়। অশিক্ষিত এ মুক্তিযোদ্ধা কেবলই ‘সনদ’ বহন করে জীবন কাটিয়েছেন। কখনো দিনমজুর, শ্রমিক, আবার কখনো গ্রামে গ্রামে সবজি ফেরি করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। ডোবার পাশে ছোট্ট পরিসরের টিনের ছাউনি ও বেড়ার জরাজীর্ণ ঘর। এখন পরিবারের চার সদস্যের দিন কাটে অর্ধাহারে-অনাহারে। দুঃস্থ এ মুক্তিযোদ্ধার শেষ ইচ্ছা পরিবারটির মাথাগোঁজার ঠাঁই করে দেয়া ও তার ছেলের একটি চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়ার দাবি অনেকেরই।