বলতে গেলে গত কয়েক বছরের অন্যতম শীর্ষ জনপ্রিয় গেম বলতে হবে অ্যাংরি বার্ডকে। একের পর এক এই গেমের নতুন নতুন পর্ব আগের চাইতেও বেশি আনন্দ ও বিনোদনের খোরাক জুগিয়েছে গেমারদের। তবে কেবল গেমিংয়ের মধ্যেই আর সীমাবদ্ধ থাকছে না অ্যাংরি বার্ড। এবারে ক্লাসরুমেও প্রবেশ করতে যাচ্ছে জনপ্রিয় এই গেম। গেমের সব চরিত্র নিয়েই এটি হাজির হবে বিভিন্ন ক্লাসরুমে। ইতোমধ্যেই অবশ্য ফিনল্যান্ডের ক্লাসরুমে ঢুকে পড়েছে তারা। সেখানকার সাফল্যেই আরও অনেক দেশেই ছড়িয়ে পড়ার পরিকল্পনা নিয়েই সামনে এগিয়ে যাচ্ছে অ্যাংরি বার্ডের নির্মাতা রোভিও।
সম্প্রতি ম্যাসাচুসেট ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি)’র একদল গবেষক জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ২১ বছর হতে হতে একজন তরুণ সর্বমোট ১০ হাজার ঘণ্টা ব্যয় করে ফেলেন গেম খেলতে খেলতে। আর ১০ বছর বয়স থেকে হাই স্কুল গ্র্যাজুয়েশন শেষ করতে স্কুলে ব্যয় করতে হয় ১০ হাজার ৮০ ঘণ্টা। বুঝাই যাচ্ছে, গেমের পেছনে বড় একটি সময়ই ব্যয় করে সেখানকার শিশু-কিশোর-তরুণরা। এই চিত্র কেবল যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই প্রযোজ্য নয়, উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে প্রায় একই ধরনের চিত্রই দেখা যায়। আর সে কারণেই গেমিংকেও স্কুলের মধ্যে নিয়ে আসার চিন্তা করছে তারা অনেকদিন থেকেই। এদিক থেকে অবশ্য সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ফিনল্যান্ড। গত বছরে বিশ্বব্যাপী শিক্ষা সূচকের র্যাংকিংয়ে শীর্ষে থাকা ফিনল্যান্ডে ইতোমধ্যেই রোভিও’র তৈরি অ্যাংরি বার্ড প্লেগ্রাউন্ড স্থাপিত হয়েছে। ৬ বছর বয়সী শিশুদের কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে এই প্লেগ্রাউন্ড, যেটি বেশকিছু কিন্ডার গার্টেন স্কুলে স্থাপন করা হয়েছে। এই অ্যাংরি বার্ড প্লেগ্রাউন্ডে কেবল অ্যাংরি বার্ড খেলার সুযোগই নেই, সাথে সাথে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষামূলক উপাদান। অ্যাংরি বার্ডের চরিত্রগুলো ছাড়াও আরও অনেক গেমিং চরিত্রকে রাখা হয়েছে এসব স্থাপনায়। এতে করে খেলতে খেলতেই শেখার সুযোগ পাচ্ছে সেখানকার শিশুরা।
ফিনল্যান্ডে সফলতার পর চীনেও বেশকিছু প্রতিষ্ঠানে অ্যাংরি বার্ড প্লেগ্রাউন্ড স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে রোভিও। এ প্রসঙ্গে রোভিও’র বই প্রকাশনা বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট সানা লুকান্ডার বলেন, ‘ফিনল্যান্ডে শিশুদের শিক্ষার সাথে খেলাকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। শিশুরা মূলত খেলতেই ভালোবাসে। তাই বিভিন্ন গেমের চরিত্রগুলোই তাদের অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করে। কাজেই খেলতে খেলতে শেখানোর ব্যবস্থা করতে পারলেই তারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে।’ তিনি জানান, অ্যাংরি বার্ড প্লেগ্রাউন্ড মূলত কোনো শিক্ষামূলক গেম নয়, এটি একটি শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ। দীর্ঘ আড়াই বছরের গবেষণার ফলাফল এই প্লেগ্রাউন্ড। তাই শিশুদের শিক্ষার জন্য এটি কার্যকরভাবেই কাজ করে যাচ্ছে।’
কেবল প্লেগ্রাউন্ডেই সীমাবদ্ধ নেই রোভিও। তারা পেঙ্গুইন, নাসা, ন্যাশনাল জিওগ্রাফির মতো সব প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে শিক্ষামূলক বই প্রকাশনার জন্য। ফলে গেমের চাইতেও এখন অনেক বেশি কিছু হয়েই সকলের সামনে হাজির হচ্ছে অ্যাংরি বার্ড।
