প্রযুক্তির ব্যবহারে এখন কত কিছুই না হচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সব ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির নতুন নতুন উদ্ভাবন পাল্টে দিচ্ছে প্রচলিত সব ধারণাকে। এর সাহায্যে এখন সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের কাছেও পৌঁছে যাচ্ছে নানা ধরনের সেবা। এরকমই একটি নতুন ধারার প্রযুক্তি সেবায় এখন কেনিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পৌঁছে দিচ্ছে উন্নত চক্ষু চিকিত্সা। আর এই চিকিত্সা সেবার মূলে রয়েছে একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। এই অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমেই এখন উন্নত চিকিত্সার সুবিধা লাভ করছেন কেনিয়ার সুবিধাবঞ্চিত মানুষ।
আফ্রিকার অনেক দেশেই আসলে সাধারণ মানুষের কাছে উন্নত চিকিত্সা সেবা অপ্রতুল। এদিক থেকে ব্যতিক্রম নয় কেনিয়াও। দেশটির ৪ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার তুলনায় চোখের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রয়েছেন মাত্র ৮৬ জন। এর অর্ধেক, অর্থাত্ ৪৩ জনই কাজ করেন রাজধানী নাইরোবিতে। ফলে রাজধানীর বাইরে উন্নত চক্ষু চিকিত্সা লাভের সুযোগ কেনিয়ার মানুষের খুব কম। এ ছাড়া এখানকার মানুষের আয়ও অনেক কম। দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করে বেড়ে ওঠা এই মানুষগুলোর চোখের সমস্যাও নেহায়েত কম নয়। কিন্তু স্বল্প খরচে তাদের জন্য চিকিত্সার ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। এই মানুষদের জন্যই আশার আলো হয়ে এসেছে ‘পারসোনাল আই এক্সামিনেশন কিট’ বা সংক্ষেপে পিক (PEEK)। মোবাইল ফোনের এই অ্যাপ্লিকেশনটির মাধ্যমে চোখের চিকিত্সা দিতে প্রয়োজন কেবল একটি মোবাইল ফোন, সোলার-পাওয়ার ব্যাকআপ আর তার সাথে একটি অতিরিক্ত ব্যাটারি। মাত্র ৫০০ ডলারের মধ্যেই এই অ্যাপ্লিকেশনের যাবতীয় খরচ মিটে যায়। ফলে এই অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে চিকিত্সা সেবা দিতে খরচও অনেক কম।
এই অ্যাপ্লিকেশনটি নিয়ে কাজ করছেন লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের ড. অ্যান্ড্রু ব্যাসটারোস এবং তার সহযোগী একটি দল। তাদের উদ্ভাবিত এই পদ্ধতি সম্পর্কে অ্যান্ড্রু জানান, ‘আমাদের মূল ভাবনায় ছিল এমন একটি সিস্টেম উন্নয়ন করা যেটি যেকোনো সময় যেকোনো স্থানে ব্যবহার করা যাবে। আর হাসপাতালে যেমন রোগীরা আসে, তেমনি এটি নিয়েও যেন রোগীদের কাছে পৌঁছে যাওয়া যায়। আর সেই সাথে খরচের বিষয়টিও আমাদের মাথায় রাখতে হয়েছে।’ তিনি জানান, তাদের উদ্ভাবিত এই সিস্টেমটি ইতোমধ্যেই কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। কেনিয়াতে এই পদ্ধতিতে চিকিত্সা সেবা প্রদানে আগ্রহীও হয়ে উঠছেন স্থানীয়রা। এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো যেকোনো স্থান, এমনকি একটি চার্চ বা স্কুলকেও মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই একটি চিকিত্সা সেবাদান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যায়।
মোবাইল এই অ্যাপ্লিকেশনের মূলে রয়েছে মোবাইল ফোনের ক্যামেরা। এর মাধ্যমেই চোখের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর চোখ স্ক্যান করা হয়। চোখের চিকিত্সার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি অপথ্যালমোস্কোপের দাম যেখানে কয়েক হাজার ডলার এবং ওজন ১৩০ কেজি, সেখানে একটি মোবাইল ফোনই এর মাধ্যমে হয়ে উঠতে পারে এর বিকল্প। আর ইতোমধ্যেই একটি পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে এটি এর কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। এর মাধ্যমেই সেবা পেয়ে কয়েক হাজার কেনিয়ান এখন চোখের সমস্যা থেকে মুক্তি পেয়েছে। প্রযুক্তির এই সুবিধা তাই আশির্বাদই হয়ে এসেছে তাদের কাছে।
