হলিউডের তারকারা প্রায় সব বিষয়েই এগিয়ে। কেউবা পারিশ্রমিকের দৌড়ে, কেউবা সিনেমা করার রেকর্ড গড়া নিয়ে ব্যস্ত। আবার কেউ খ্যাতির চূড়ায় উঠতে ব্যস্ত। তবে শীর্ষ ধনীর তালিকায় স্থান পেয়েছিলেন সিনেমা, গান আর ফ্যাশন জগতের তারকা দম্পতিরা। শুরুতেই যারা আমাদের খুব চেনা, কেইথ আরবান ও নিকোল কিডম্যান, ডেভিড আর ভিক্টোরিয়া বেকহাম কিংবা বেন অ্যাফ্লেক ও জেনিফার গার্নারও ছিলেন এই ধনী দম্পতিদের তালিকায়। তাদের মধ্য থেকে সেরা পাঁচ তারকা দম্পতিদের তুলে ধরা হলো আমাদের এ আয়োজনে।
লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
জে-জেড আর তার স্ত্রী বেয়োন্স নোয়েলস
২০১০-এর জুন থেকে ২০১২-এর জুন পর্যন্ত তারকা দম্পতিদের আয়ের হিসাবের গল্পে প্রথমেই আলোচনা আসে হিপ-হপ গায়ক, জে-জেড আর তার স্ত্রী আর অ্যাও বি গায়িকা বেয়োন্স নোয়েলসের কথা। কয়েক বছর আগেই তাদের বিয়ে হয়েছিল। গেল বছর এই দম্পতির একত্রে আয় ছিল ২৪৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার! বিশাল অংক। তাদের এই অঢেল ধন ভাণ্ডারের কারণেই ‘হলিউড বেস্ট আর্নিং কাপল’-এর তালিকায় একেবারে প্রথমেই আছেন এই দম্পতি।
তালিকার ২য় স্থানেই রয়েছেন হ্যারিসন ফোর্ড ও তার স্ত্রী ক্যালিস্টা
২০০৯ সালে এই দম্পতির বিয়ের ২০ বছর পূর্ণ হয়। এবং তারা সেই বছরের এমা অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন। তাদের দ্বৈত আয় মোটামুটি ৬৯ মিলিয়ন ডলার। এবং সেই সাথে হ্যারিসন ফোর্ড হলেন হলিউডের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক নেওয়া অভিনেতা। ২০১০ সালের তার অভিনয় করা ২টি সিনেমাতেই তিনি সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক নিয়েছেন। অপরদিকে তার স্ত্রীর আয় এসেছে ‘ব্রাদার অ্যান্ড সিস্টার’ নামের সিরিজ দিয়ে। তালিকায় তারা রয়েছেন ২য় স্থানে।
এরপরই তালিকায় আসে ব্র্যাডপিট আর অ্যাঞ্জেলিনা জোলির নাম
ব্র্যাডপিট আর অ্যাঞ্জেলিনা জোলির যুগলবন্দি ‘ব্র্যাঞ্জেলিনা’ রয়েছে এই তালিকার তিন নম্বরে। এ ছাড়াও তাদের ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস স্মিথ’ সিনেমার একত্রে অভিনয় সারা দুনিয়ার বক্সঅফিসকেই রীতিমতো নাড়িয়ে দেয়। এ বছরের এক হিসাবে দেখা যায়, তাদের আয় ৫৫ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত। যদিও সারা বছর তারা থেকেছেন আলোচনার র্শীষে। আর মিডিয়ার দারুণ কৌতূহল তাদের উপর সব সময়ই আলো ফেলে। পাশাপাশি এই দম্পতি সম্পর্কে সবচেয়ে মজার তথ্য জানা গেছে, তারা তাদের উপার্জিত অর্থের একটি বড় অংশই চ্যারিটিতে দান করে দেন। সম্প্রতি অ্যাঞ্জেলিনা জোলির ‘সল্ট’ ও ‘ইনগ্লোরিয়াস বাস্টার্ডস’ তার পারিশ্রমিকের অংকটি বাড়িয়ে নিতে সাহায্য করেছে। এ বছরও তালিকায় তাদেরকে শীর্ষে দেখা যাবে, এমনটা আশা করা যেতেই পারে। এ তালিকা ছাড়াও বছরের বিভিন্ন সময়ে নানা কাজের মধ্য দিয়ে তারা উঠে এসেছেন আলোচনার শীর্ষে। সম্প্রতি ব্র্যাড পিটের ‘ওয়ার্ল্ড ওয়ার জেড’ নামের একটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। সিনেমাটিকে ব্যবসাসফল বলা যায়।
তালিকার পরের স্থানেই রয়েছেন উইল স্মিথ ও তার স্ত্রী জোডা পিংকেট স্মিথ
‘পারাস্যুট অব হ্যাপিনেস’ কিংবা ‘হ্যানকক’ দিয়ে বক্স অফিসে তোলপাড় করার পাশাপাশি হলিউডের এই শক্তিমান অভিনেতা আর তার পরিবার শীর্ষে রয়েছেন ডলারের উত্তাপেও। আর তাতে ব্যবসার থার্মোমিটারে পারদ উঠে যায় ১.৮ বিলিয়ন ডলারের ঘরে! এ ছাড়াও তাদের ঝুলিতে রয়েছে ‘মেন ইন ব্ল্যাক’-এর মতো সিনেমার খেতাব। তবে এ ব্যাপারে উইল স্মিথের প্রতিক্রিয়ায় কিন্তু এই উত্তাপের লেষমাত্র নেই। ‘হ্যানকক’ এবং ‘পারাস্যুট অব হ্যাপিনেস’-এর জোড়া সাফল্যে আমি খুশি’—এমন সাদামাটা প্রতিক্রিয়ায় ডলারের উত্তাপটা রীতিমতো হজম করে গেছেন মিস্টার স্মিথ। তবে অন্যরা বিষয়টিতে ব্যাপক অবাক। ঘটনা দেখে সবাই এখন তাদেরকে হলিউডের সবচেয়ে ‘ব্যাংকঅ্যাবল’ পরিবার বলে ডাকতে শুরু করছে। কারণ গত বছরে উইল স্মিথ যে ৪৮ মিলিয়ন আর জোডা স্মিথ ৭.৬ মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। এবার তাদের আয় আরও বেড়ে যাবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। কারণ তাদের সাথে যোগ হয়েছেন তাদের ছেলে, জাডেন স্মিথ। বাবা ছেলের নতুন একটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে ‘আফটার আর্থ’ নামে। সিনেমাটি শীর্ষ দশে টিকতে না পারলেও বেশ ভালোই ব্যবসা করেছে।
টম হ্যাংস ও তার স্ত্রী রিটা রয়েছেন ৫ম স্থানে
ওয়াল্ট ডিজনি পিকচারসের ‘ওল্ড ডগ’ সিনেমার প্রিমিয়ারে একত্রে পাওয়া গেল টম হ্যাংস ও তার স্ত্রী রিটা উইলসনকে। ৯ নভেম্বর ‘এল ক্যাপিটাল থিয়েটার’-এ এই অনুষ্ঠানটি হয়েছিল। খবরটি তাদের মুখেই জানা যায় যে, তাদের দ্বৈথ আয়ের অংকটি হলো, ৩৫.৫ মিলিয়ন ডলার। টম হ্যাংসের সম্প্রতিকালের আলোচিত সিনেমাটি হলো, ‘অ্যাঞ্জেলস অ্যান্ড ডেমনস’। এ ছাড়া তার আরও কিছু ব্যবসাসফল সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান’ ও ‘টার্মিনাল’।
