নরসিংদী
হেলাল খানকে জুতার মালা পরিয়ে দেয় গ্রামের বিচারক। আর তার বোন রজনীকে মাটিতে পুঁতে দোররা মারার নির্দেশ দেওয়া হয়। এমন একটি সিক্যুয়েন্সে রেবেকা মণি, রেহেনা জলি, ঝুমর, মাহি’র কান্না যেন গ্রামের বাতাসে মিশে গিয়েছিল। একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিতব্য ‘নাকফুল’ ছবির আউটডোর লোকেশনে এমনি দৃশ্য দেখা গেল। পরিচালক দেওয়ান নাজমুল তার গল্পের বাস্তবতা ফুটিয়ে আনতে গ্রামের সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ চেয়েছিলেন। কিন্তু মেঘ না চাইতেই বৃষ্টির মতো মানুষের ঢল নেমে আসবে তা কেউই কল্পনা করতে পারেননি। ছবিতে পাতা রূপী রজনীর গ্রাম্য শালিসে যখন মাতবররা বিচারের নামে প্রহসন করে, তা দেখার জন্য কিছু মানুষের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সে বিচার অর্থাত্ পাতাকে মাটিতে পুঁতে দোররা মারার দৃশ্য দেখতে নরসিংদী জেলার মনোহরদী অজপাড়াগাঁ থানার কামার আলগী গ্রামের পুরো গ্রাম তো বটেই, আশপাশে তিন-চার গ্রামের মানুষ চলে আসে মাহাবুদ্দিন স্কুলের মাঠে। এমনকি টিনের চালার ওপরও দাঁড়িয়ে শত শত মানুষ শুটিং দেখেছে। একপর্যায়ে সেই টিনের চালা ভেঙে মানুষ পড়ে যায়। ভাগ্যক্রমে দু-একজন আহত হলেও বাকিদের কিছুই হয়নি। ‘নাকফুল’ পরিচালক দেওয়ান নাজমুলের দ্বিতীয় ছবি। এর আগে তিনি নির্মাণ করেছেন যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘সীমা রেখা’। এর পশ্চিম বাংলার পরিচালক স্বপন সাহা। ছবিটি এখন রিলিজের অপেক্ষায়। প্রথম ছবি রিলিজ না দিয়েই দ্বিতীয় ছবি শুরুর প্রসঙ্গে দেওয়ান নাজমুল বললেন, ‘ছবি রিলিজের জন্য সময় ও সুযোগের দরকার হয়। কিন্তু ভালো ছবি নির্মাণের জন্য দরকার ভালো বিষয়বস্তু। আমি তা পেয়ে গেছি, তাই ছবি শুরু করেছি। আমি আরও দুটো ছবি যৌথ প্রযোজনায় নির্মাণ করছি। হয়তো সে ছবিও ‘নাকফুল’ রিলিজের আগে শুরু হয়ে যেতে পারে।’ ‘নাকফুল’ ছবির কাহিনী, চিত্রনাট্য ও সংলাপ পরিচালকের নিজের। প্রযোজনা করছেন শাহীনা নাজমুল, সংগীত পরিচালনা আলউদ্দিন হক। ছবিটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন হেলাল খান, রেবেকা মণি, রেহেনা জলি, নবাগত ফাহিম রজনী, দুলারী, সরল হাসমত, সাদেক বাচ্চু, মিজু আহমেদ, ঝুমা, তন্ময়, ববি, জ্যাকী আলমগীর, শাহীন ও কাজী হায়াত্।
