প্রতিপক্ষের বুকে কাঁপন ধরানোর মতো একক কোন তারকা না থাকলেও ইতালির দলগত সক্ষমতাকে মোটেই হালকা করে দেখা উচিত্ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির ফুটবল কোচ সিজার প্রানদেলি। তবে অষ্টাদশবারের মতো বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেয়া দেশটি বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচে আগামীকাল রাতে ডেনমার্কের মুখোমুখি হবার আগে প্রানদেলি গতকাল একথা বলেন।
দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপের গত আসরে প্রথম রাউন্ডেই বিদায় নেয়ার পর মার্সেলো লিপ্পির স্থলাভিষিক্ত হওয়া প্রানদেলির অধীনে ইতালি গত বছর ইউরোতে রানার্স-আপ হয়। বিশ্বকাপে দুই বার রানার্স আপ হওয়া দেশটির ফুটবল পণ্ডিতরা তখন প্রানদেলির পারফরম্যান্সে বেশ সন্তুষ্টিই প্রকাশ করেছিলেন। তবে এরপর গত ১৫ মাসে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচগুলোসহ বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচে বেশ কয়েকবারই হোঁচট খেতে হয়েছে ইতালিকে। মোট ১৭টি প্রীতি ম্যাচে মাঠে নেমে মাত্র চারবারই পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছে আজ্জুরিরা। ব্যক্তিগত এবং কৌশলগত কারণে প্রানদেলির বারবার দলে পরিবর্তন আনাকেই দায়ী করা হচ্ছে এর পেছনে। তবে প্রাণদেলি এখনও আস্থা রাখছেন তার নিজের উপরেই। প্রাণদেলির ভাষায় ‘এমন একটি পদ্ধতি যা আমার খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকর হবে’ খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত এই ভাঙ্গা গড়া চলবে বলে আবারও জানিয়েছেন তিনি।
সামপ্রতিক ফর্ম আর দলের তারকাশূন্যতা বিবেচনায় ইতালিকে ব্রাজিল বিশ্বকাপের টপ ফেভারিটদের তালিকায় হয়তো রাখতে চাইবেন না অনেকেই। তবে তাই বলে ইতালিকে যারা বাতিলের খাতায় ফেলে দিতে চান তাদের প্রতি প্রচ্ছন্ন এক হুমকিই দিয়ে রেখেছেন প্রাণদেলি। ইতালির মতো দলের জন্য তারকাশূন্যতা খুব বড় কোন বিষয় নয় বলেই মনে করছেন এই ৫৬ বছর। নীল সাদাদের দলীয় সমঝোতা সাবেক এই ফিওরেন্তিনা কোচের আশার পালে হাওয়া যোগাচ্ছে। বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেয়া সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, ‘আমার খেলোয়াড়রা তাদের যোগ্যতা সম্পর্কে খুব ভালো করেই জানে। জিয়ানলুইজি বুফন ঠিকই বলেছে যে ফেভারিটদের কাতারে আমরা হয়তো দ্বিতীয় সারিতেই থাকবো। তবে আমি (জর্জিও) চিয়েলিনির সাথেও একমত যে, এই তারকাশূন্যতাকে আমরা সম্মিলিত প্রচেষ্টা দিয়ে ঢেকে দিতে পারি। যদি এই নীতি নিয়ে আমরা টুর্নামেন্ট শুরু করতে পারি, কোন সন্দেহ নেই দারুণ কিছুই আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।’
বুফনের মতো বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক আর সিরি এ’র সেরা ডিফেন্ডারদের নিয়ে গড়া ইতালির রক্ষণ বরাবরের মতোই এবারও দলটির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক। যার প্রমাণ বাছাইপর্বের আট ম্যাচে এখন পর্যন্ত মাত্র পাঁচ গোল হজমের বিষয়টি।
তবে মিডফিল্ডের পাশাপাশি প্রাণদেলিকে ভাবাচ্ছে আক্রমণভাগও। কারণ, একমাত্র আন্দ্রে পিরলো ছাড়া মাঝমাঠে নেই অন্য কোন বড় নাম। তবে কোচের বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত দলীয় সমঝোতাই গড়ে দেবে পার্থক্য, ‘আমরা কি স্বপ্ন দেখছি সেটা বলার সময় এখনো আসেনি। আমি শুধু বলতে পারি, (বড় কিছু করতে হলে) আপনাকে বড় স্বপ্নই দেখতে হবে। আমাদের দলটি সত্যিই অসাধারণ। কারণ, আমরা এমন একটি দল যারা শক্তিমত্তার পাশপাশি তাদের সীমাবদ্ধতাগুলোও জানি। এবং সেভাবেই আমরা তৈরি হচ্ছি।’
