উখিয়ায় স্কুলের করুণ দশা

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৪৩
উখিয়ার স্কুলে টিনের ছাউনি, পলিথিনের ছাদ ও বালির ফ্লোর। সব মিলিয়ে প্রচণ্ড তাপমাত্রায় ছাত্র-ছাত্রীদের কাহিল অবস্থা। সংযোগ থাকলেও অধিকাংশ সময় বিদ্যুত্ থাকে না। এর মধ্যে চলছে শিক্ষকদের পাঠদান কার্যক্রম। গত সোমবার উখিয়ার থাইংখালী উচ্চ বিদ্যালয় ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। জানা গেছে, স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গের অনুপ্রেরণা ও আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে ১৯৯৪ সালে বিদ্যালয়টি যেভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় সেভাবেই রয়ে গেছে। অবকাঠামোগত কোন উন্নয়ন না হলেও শিক্ষার দিক দিয়ে পিছিয়ে নেই বলে বিদ্যালয়টি। ১১ জন শিক্ষক-কর্মচারী দিয়ে পরিচালিত এ স্কুলের বর্তমান তিন শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। পরিচালনা কমিটির সভাপতি শামসুল আলম সওদাগর জানান, ২০০১ সালের মে মাসে মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয় হিসাবে নিবন্ধনপ্রাপ্ত হয়। বর্তমানে একটি পূর্ণাঙ্গ উচ্চ বিদ্যালয় হিসাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত হলেও সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ঘুরে দেখা যায়, বালির ফ্লোর, পলিথিনের ছাদ ও টিনের ছাউনির প্রচণ্ড গরমে ছাত্র-ছাত্রীরা কাহিল হয়ে পড়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী মর্জিনা আক্তার জানান, সংযোগ থাকলেও অধিকাংশ সময় বিদ্যুত্ থাকে না। উপরন্তু টিন আর পলিথিনের গরমে শিক্ষকের পাঠদান শ্রবণ করলেও মনে থাকে না। দশম শ্রেণির ছাত্র মো: আব্দুল্লাহ জানান, পর্যাপ্ত আসবাবপত্র না থাকার কারণে একটি বেঞ্চে ৭/৮ জন করে বসে ক্লাশ করতে হয়। ছাত্র-ছাত্রীদের অভিযোগ শুষ্ক মৌসুমে গরম আর বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানিতে বই, খাতা ভিজে পড়ালেখার মারাত্মক ব্যাহত হলেও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পাঠদানে আন্তরিকতা, মাধুর্যপূর্ণ ব্যবহার ছাড়াও বাড়ির কাছাকাছি হওয়ার সুবাদে কষ্ট করে হলেও এ স্কুল ত্যাগ করতে ইচ্ছে হয় না। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাস্টার আবদুর রহিম জানান, আর্থিক দৈন্যদশার কারণে স্কুল ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার ভিতরে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে। তবে, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি একটু আন্তরিক হলে বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব হতো।