অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল আল্লাহ তায়ালা আমাকে সময় ও সুযোগ করে দিলে আমি পবিত্র হজ্বব্রত পালন করব। ২০০৮ সালে হজ্ব মৌসুমের আগেই আমার স্ত্রী আমাকে হজ্বে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দিতে লাগলেন এবং বললেন আমরা দু’জন এ বত্সরই হজ্বে যাব। তার কথামত নামাজ পড়ে প্রতি দিন আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করতে আরম্ভ করলাম। আল্লাহ যেন আমাদেরকে হজ্বে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। আল্লাহ আমাদের প্রার্থনা মঞ্জুর করলেন। আমাদের কয়েকজন আত্মীয় স্বজনসহ আমরা এক কাফেলায় অন্তর্ভুক্ত হলাম। নির্ধারিত তারিখে মোয়াল্লেমের মাধ্যমে হজ্বের উদ্দেশ্যে আমরা প্রায় ৭০ জন মহিলা ও পুরুষ মিলে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে রওয়ানা হই। হজ্বের তালিবিয়া পাঠ করতে বিমানে আরোহন করি। যথাসময়ে আনুমানিক ভোর ৪ ঘটিকার সময় আমরা জেদ্দা এয়ারপোর্টে পৌছি। আমরা সকলেই আল্লাহর দরবারে হাজির হওয়ার সংকেত দিতে দিতে এগিয়ে চললাম। কাবা শরিফ ঢুকেই নজরে পড়লো কালো গিলাফ পরিহিত আল্লাহর ঘর অসংখ্যক মানুষ চারিদিকে তাওয়াফ করছে। প্রথম আল্লাহর ঘর দেখামাত্র আমার শরীরে একটা কাপুনি দিয়ে ভাবাবেগে আপ্লুত করে ফেললো। আমার শারীরিক ও মানুষিক একটা পরিবর্তন পরিলক্ষিত হলো। মোয়াল্লেম সাহেব আমাদেরকে হারাম শরীফে বেশীক্ষন অবস্থান করালেন না। তারপর বাসায় উঠলাম। এরপর মক্কার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলি মোয়াল্লেমের মাধ্যমে পরিদর্শন করলাম। আমরা হজ্বের পূর্বে মক্কা শারিফে প্রায় ২৫ দিন অবস্থান করেছিলাম। মক্কায় অবস্থান কালে জান্নাতুল মুয়াল্লা কবরস্থান দেখলাম, অন্যান্য দর্শনীয় স্থান দেখলাম। সেখানে কিছুক্ষন অবস্থান করলাম এবং দোয়া দুরম্নদ পাঠ করলাম। তার পর বসায় চলে আসলাম। প্রতিদিন নিয়ম মাফিক হারাম শরিফে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া তোয়াফ করা, সাফা-মারোয়া দৌড়ানো হজ্বের কাজগুলি করছি। তাওয়াফ করার সময় প্রতি দিনই মনে করি আজ হজরে আসওয়াদ বা পাথরে চুমু দেবো। কিন্তু এতো মানুষের ভিড়ে সুযোগ পাচ্ছিলাম না। একদিন সুযোগ হয়ে গেলো। হাজীরা হুড়ো-হুড়ি করছে ফাঁক দিয়ে আমি মাথা ঢুকিয়ে দিয়ে মনের ইচ্ছা মত পাথরে চুমু দিলাম এবং অনেক কষ্ট করে বের হলাম। তারপর তাওয়াফ শেষ করে মাকামে ইব্রাহিমকে সামনে রেখে ২ রাকাআত নামায পড়লাম। সাফা-মারোয়ায় সাঈ করলাম (দৌড়ালাম)। পরিশেষে জমজমের পানি পান করে বিশ্রাম নিলাম। এইভাবে প্রতি দিন হজ্বের কাজ গুলি শেষ করতাম। দীর্ঘ ২৫ দিন পবিত্র মক্কায় অবস্থান করে আমাদের পুরো কাফেলা মদিনায় রওয়ানা হলো। যেখানে শায়িত আছেন মসজিদে নবাবীর এক পার্শ্বে রসূলুল্লাহ (স.) এবং তাঁর প্রখ্যাত ২ জন সাহাবী হযরত আবু বকর (রা.) ও হযরত ওমর (রা.)। তাদের ছালাম জানালাম, রিয়াজুল জান্নায় দুই রাকাআত নামাজ আদায় করে মসজিদে নবাবীর ভেতর এবং বাইরের পৃথিবীর সেরা এবং নিখুত কারুকায্য গুলি পরিদর্শন করি। পবিত্র মদিনায় দশ দিন অবস্থানের পর মক্কায় চলে আসি। আবারো বিদায়ী তাওয়াফ করি। ফিরে আসার পূর্বে মন বলছিলো— সব কাজ সুন্দরভাবে করার চেষ্টা করছি। আল্লাহ আমাদের হজ্বকে কবুল করে নাও। আর সারাজীবন হজ্বের শিক্ষা মেনে চলার তাওফীক দাও।
