দুই অধিনায়কের লড়াইয়ে সুজনের হাসি

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৪১
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনটা আসলে সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরী ও তার অনুসারীদের সরে দাঁড়ানোর ভেতর দিয়েই মীমাংসিত একটা ব্যাপারে পরিণত হয়েছিল। অল্প কয়েকটা পদে বাকি ছিল নির্বাচনের উত্তেজনা। সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা ছিল জাতীয় দলের সাবেক দুই অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু ও খালেদ মাহমুদ সুজনের লড়াই নিয়ে। এই দুই সাবেক তারকা ক্রিকেটার খেলোয়াড়ী জীবনে যেমন, সংগঠক জীবনেও দারুণ জনপ্রিয় ক্রিকেট অঙ্গনে। কিন্তু নির্বাচনী মারপ্যাঁচে এই দু’জনকেই কাল লড়তে হল পরস্পরের বিপক্ষে। সে লড়াইয়ে শেষ হাসিটা হেসে বোর্ড পরিচালক হয়ে গেলেন সাবেক অধিনায়ক, জাতীয় দলের সাবেক সহকারী কোচ খালেদ মাহমুদ। সুজন ও লিপুর লড়াইয়ে কে জিতবেন, তা দেখার জন্য এনএসসি টাওয়ারের সম্মেলন কক্ষে ভোট শেষ হয়ে যাওয়ার পর টান টান উত্তেজনা নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন ক্রিকেট অঙ্গনের মানুষ। একপাশে লিপু অপর প্রান্তে সুজন। অপেক্ষা ঘোষণা শোনার। প্রথম চার ভোটে এগিয়ে গেলেন লিপু; নিশ্চুপ সুজন-শিবির। লিপুর চার ভোট পাওয়ার পর সুজনের প্রথম ভোট পাওয়া গেল। লিপু আট ভোট পাওয়ার পর পিছিয়ে থাকা সুজন এগিয়ে যেতে শুরু করলেন। একের পর এক ভোটের হিসাব সুজনের পক্ষে আসতে শুরু করল। একসময় লিপু এবং সুজনের ভোট সমান হয়ে যাওয়ার পর লিপু পেছাতে থাকলেন। এগিয়ে গেলেন সুজন। লিপু ভোট পেলেন ১৫টি আর সুজন পেলেন ১৭টি। ১৮তে গিয়ে থেমে গেল লিপুর ভোটের চাকা। এগিয়ে যেতে লাগলেন সুজন। একটানা ভোট পেলেন ৮টি। সুজনের ২৫ ভোট পাওয়ার ঘোষণাটি দেয়ার মুহূর্তেই সব নিরবতা ভেঙ্গে উল্লাস শুরু করে দিলেন সুজনের ভক্তরা। লিপু উঠে দাঁড়লে সুজনও লিপুকে লক্ষ্য করে এগিয়ে যান। দু’জন দু’জনের প্রতি হাত বাড়ালেন, বুকে বুক মেলালেন। বোঝা গেল এই নির্বাচন দু’জনকে দু’রকম স্বাদ দিলেও পরস্পরের সম্পর্কটা অন্তত খারাপ হওয়ার নয়। এর পর মুহূর্তে নিমিষেই হাওয়া হয়ে গেলেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক লিপু। সবার নজর গিয়ে পড়ল সুজনের দিকে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সার্ভিসেস দল নিয়ে গড়া বিসিবির তিন নম্বর ক্যাটেগরিতে একটি পরিচালক পদে দুই প্রার্থী সুজন আর লিপু। ৪৪টি ভোটের মধ্যে ৪৩টি ভোট পড়েছে। যারা ভোট দিয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সুজন বলেছেন, ‘খুব কঠিন ছিল বিষয়টা। কারণ লিপু ভাই তো কঠিন প্রতিপক্ষ।’ দায়িত্ব প্রসঙ্গে সুজন, ‘আমার দায়িত্ব বেড়েছে। আমি বলব একটা ভালো বোর্ড হয়েছে। পাপন ভাইয়ের নেতৃত্বে আমরা ভালো কাজ করতে পারব।’ কি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে চান সুজন? জবাবে জানালেন, ‘টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর আমাদের যে অবকাঠামো থাকা প্রয়োজন ছিল সেটা হয়নি। আমরা সেগুলো নিয়ে কাজ করতে চাই।’