বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের পছন্দ ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০১৩, ২১:২৭
ক্যারিয়ার গড়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয় এইচএসসির পরই। এইচএসসির পর কোথায় পড়বে তার ওপরই নির্ভর করছে শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত্ পেশা। আর স্বপ্নের বাস্তবায়নে এই সময়টাতেই তাকে প্রস্তুত হতে হয়। এইচএসসির পর শিক্ষার্থীদের নিজের জগত্টাকে খুঁজে বেড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। কম্পিউটারের সামনে বসে দেশের বা দেশের বাইরে কোন পেশায় কী অবস্থা তা খুঁজে দেখার সুযোগ রয়েছে তাদের। মেধা ও সামর্থ্যের সাথে মিল রেখে কম্পিউটারের সামনে বসেই সে তার ক্যারিয়ারের একটি ছক একে ফেলে। বিজ্ঞান পড়ুয়া শিক্ষার্থীর জন্য নানামুখী ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ থাকলেও বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে নিজেকে একজন চিকিত্সক হিসাবে দেখতে চান। এসব শিক্ষার্থীর বক্তব্য, বাংলাদেশের ভবিষ্যত্ বিবেচনায় চিকিত্সক হওয়া ভালো ও সম্মানিত পেশা। এ পেশায় থেকে নিজের জন্য, পরিবারের জন্য বা অন্যের জন্য কিছু করার সুযোগ থাকে। এ পেশায় বিদেশে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ বেশি। চিকিত্সা পেশার পর প্রকৌশলী হবার স্বপ্ন থাকে অনেক শিক্ষার্থীর। আবার বিজ্ঞানের অনেক শিক্ষার্থী পছন্দের তালিকায় প্রথমে থাকে প্রকৌশল পেশা। এইচএসসি উত্তীর্ণ একাধিক শিক্ষার্থীর মতে, যারা বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী তাদের রয়েছে নানা দিকে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ ও আসন সংখ্যা বেশি। দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিজ্ঞানের সুযোগই বেশি। দেশের ৫ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ১টি টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় ও ৪টি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলো আসনই বিজ্ঞান শিক্ষার্থীর জন্য। এ কারণে মানবিক বা বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের চেয়ে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের নানা পেশায় ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ থাকে। নটরডেম কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী নবিল। ভবিষ্যতে নিজেকে সে একজন ডাক্তার হিসাবে দেখতে চান। ডাক্তার হিসাবে ক্যারিয়ার গড়ার কারণ হিসাবে তিনি বলেন, এ পেশায় গিয়ে নিজের পাশাপাশি অন্যের জন্য ভালো কিছু করার সুযোগ থাকে। তিন বন্ধু রাইয়ানা ওয়ালিক, আফসানা ও সাবাবা ইফরান মমা। এই তিনজনই এইচএএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে। তিনজনেই বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করলেও এর মধ্যে একজনের স্বপ্ন ভবিষ্যতে প্রকৌশল হবার । অন্য দুইজন নিজেদের ভবিষ্যতে চিকিত্সক হিসাবে দেখতে চান। মফস্বলের একটি কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে নাফিজা। শিক্ষা জীবনের শুরুতেই তার স্বপ্ন ছিল ভবিষ্যতে তিনি ডাক্তার হবেন। নাফিজার বাবা-মাও চায় তার মেয়ে ভবিষ্যতে ডাক্তার হবে। এ কারণেই তার ঢাকায় আসা। একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়ে নিজেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন তিনি। সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ না পেলে প্রকৌশল ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য চেষ্টা করবেন। তার বিশ্বাস, যে কোন একটিতে সে ভর্তির সুযোগ পাবেন। তথ্য অনুযায়ী, দেশে সবগুলো মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজ মিলিয়ে মোট ৮ হাজার ৪৯৩টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে ২২টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজে আসন সংখ্যা ২ হাজার ৮১১টি। আর ৫৩টি বেসরকারি মেডিক্যালে ৪ হাজার ২৪৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পান। এছাড়া নয়টি ‘পাবলিক’ ডেন্টাল কলেজ ও মেডিক্যাল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটে ৫৬৭টি আসন রয়েছে । এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মতে, দেশের মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজের আসন সংখ্যা বাড়ানো হলে অনেকের স্বপ্ন পূরণ হতে পারে। নিজেকে ভবিষ্যতে একজন প্রকৌশল হিসাবে দেখতে চান চয়ন রহমান। তার মতে, ছোট বেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল ইঞ্জিনিয়ার হবার। এ কারণে বিজ্ঞান বিষয় নিয়ে পড়েছি। এখন সময় এসেছে স্বপ্ন বাস্তবায়নের। তাই পুরোপুরি কোচিংয়ে ব্যস্ত রয়েছি। রাজধানীর বিসিআইসি সায়েন্স কলেজের শিক্ষার্থী তাবাসসুম সুলতানা এখন পুরোপুরি ব্যস্ত কোচিংয়ের পেছনে। তার স্বপ্ন ভবিষ্যতে ডাক্তার হবার। এই মেধাবী শিক্ষার্থী এখন প্রতিযোগিতার দৌড়ে টিকে থাকার জন্য লড়াই করছেন। এই শিক্ষার্থীর বক্তব্য, আসন সংখ্যা কম থাকার কারণে আমাদের অনেকের স্বপ্নই পূরণ হবে না। বর্তমান পদ্ধতি অনুযায়ী এসএসসি ও এইচএসসির ফল মিলিয়ে মোট সিজিপিএ ৮ থাকলেই মেডিক্যালে ভর্তির আবেদন করা যায়। এইচএসসির ফল প্রকাশের পর জিপিএ-৫ এর কম পাওয়া বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। তারা ঢাকা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এছাড়া ৪টি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ও তাদের পছন্দের তালিকায় থাকে।