জেলার ঐতিহ্য নৌকা বাইচ বা নাও দৌড়ানি

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৩, ১৯:৫৩
মেঘনার অদূরে উচ্ছল কন্যা তিতাস। বর্ষার পূর্ণ যৌবনবতী সময়ে তিতাস তীরবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়ে এক মনোমুগ্ধকর রূপ পরিগ্রহ করে। বেশির ভাগ মানুষের তখন কাজকর্ম কিছুই নেই। গ্রাম্যবধূরা নৌকায় চড়ে দূর-দূরান্তে নাইওরী যায়। যুবক বৃদ্ধ প্রত্যেকের হাতে অফুরন্ত সময়। এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে যেতে হলেও নৌকার প্রয়োজন। বিনোদন সন্ধানী মানুষের একমাত্র বিনোদন হিসেবে নৌকা বাইচ না নাও দৌড়ানির আয়োজনের এভাবেই উদ্ভব বলে মনে করা হয়। ঠিক কবে থেকে এ অঞ্চলে নৌকা বাইচ না নাও দৌড়ানির আনুষ্ঠানিক প্রচলন হয়েছে তা কোন গ্রন্থে উল্লেখ পাওয়া যায়নি। তবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম নাও দৌড়ানির গল্পগাঁথা মুখে মুখে ছড়িয়ে আছে। অন্যান্য ক্রীড়ার মতই নৌকা দৌড়ের প্রতিযোগিতামূলক আয়োজন এক এলাকার সাথে অন্য এলাকার শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক বলে বিবেচিত হতো। এলাকার রাজা, জমিদার পরবর্তীতে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় নৌকা দৌড়ের প্রতিযোগিতা এখনও টিকে আছে। বিখ্যাত কয়েকটি নৌকা বাইচ এ এলাকায় অনুষ্ঠিত হতো। তন্মধ্যে শাহবাজপুরের নৌকা বাইচ, নবীনগরের নৌকা বাইচ, বাঞ্ছারামপুরের নৌকা বাইচ এবং জেলা সদরের পূর্বকূল ঘেঁষে বয়ে চলা তিতাসের বুকে যে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হতো সেগুলো নানা গল্পগাঁথায় কিংবদন্তীর পর্যায়ে। নৌকা বাইচকে উপলক্ষ করে লোকগীতি, পুিঁথ, লোকসাহিত্যের আয়োজনও কম ছিল না। তেমনই একটি নৌকা বাইচের গানের কয়েকটি কলি- ‘নাও দৌড়াও যে কুরুলিয়া খালে, শীরিপুরের গিরি মাঝি কোড়া করল পালে’। নৌকা বাইচের প্রতিযোগিতা কয়েকটি শ্রেণিতে অনুষ্ঠিত হতো। এগুলো হচ্ছে সারেঙ্গী নাও (৭০-৭৫ হাত লম্বা ২ হাত প্রস্থ), পাতাম নাও (অপূর্ব নির্মাণ শৈলীর পাতাম নাও সামনের দিকে নিচু এবং পিছনের দিক ক্রমশ উঁচু হয়ে ১০-১৫ হাতবিশিষ্ট উচ্চতা হয়), কুশা নাও (অল্প কয়েকজন প্রতিযোগীর জন্য ছোট ছোট নৌকা)।