ব্যবসা বাণিজ্যে সফল স্থলবন্দর হিসেবে গণনা করা হলে আখাউড়া স্থলবন্দরের নামটি আগে আসে। এর কারণ শতভাগই পণ্য রফতানি হয় এ স্থলবন্দর দিয়ে। প্রতিবছর পণ্য রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে রেকর্ড সৃষ্টি করে থাকে। তারপরও সম্ভাবনাময় এই বন্দর থেকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ব্যবসায়ীরা।
জানাগেছে, ২০১১ সালে ১৩ আগস্ট পুর্ণাঙ্গ বন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হলেও এর কার্যক্রম শুরু হয় ২০০২ সাল থেকে। তাপরও প্রতিবছরই লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে দ্বিগুণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে আসছে। কিন্ত নেই ব্যবসায়ীদের সুযোগ সুবিধা। আখাউড়াতে বৈদেশিক বাণিজ্যিক ব্যাংকিং শাখা না থাকায় জীনের ঝুকি নিয়ে কুমিল্লা বা ঢাকা থেকে লাখ লাখ টাকা তোলে আনতে হচ্ছে। নেই রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর কোন সহযোগিতা। আখাউড়ার স্থল বন্দরের রফতানি কারকরা শুধু এই প্রতিষ্ঠানের নামই শোনে এসেছেন। কোন সহযোগিতা পাচ্ছে না। এত সমস্যার মধ্য দিয়েও প্রতিদিন কোটি টাকার পণ্য রফতানি হচ্ছে ভারতের উত্তর-পুর্বাঞ্চলের সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত রাজ্য গুলো হলো ত্রিপুরা, মেঘালয়, আসাম, মিজোরাম, মণিপুর, নাগাল্যান্ড ও অরুণাচলে। আর ওই রাজ্য গুলোতে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় ৫০টি পণ্য রফতানি হচ্ছে। এ রাজ্য গুলোতে বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিস থেকে শুরু করে সকল জিনিসের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। সে দেশের ভোক্তারা মুগ্ধ বাংলাদেশের পণের মান দেখে।
এ দিকে বিভিন্ন সমস্যার কারণে দিন দিন রপ্তানি কমে যাচ্ছে। গত ২০১১-১২ অর্থবছরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আখাউড়া স্থবন্দরে রপ্তানী আয় হয়েছিল ৪শ৮কোটি টাকা। মাত্র এক বছরে অথাত্ ২০১২-১৩ অর্থবছরে রপ্তানী আয় কমেগিয়ে দারিয়েছে ৩শ৪০ কোটি টাকায়। ফলে গত এক বছরে তুলনায় আখাউড়া স্থলবন্দরে রপ্তানী আয় কমেছে ৬৮ কোটি টাকা। কিন্তু চলতি বছরের মে মাস থেকে ইউএস ডলারের সাথে ভারতীয় মুদ্রা রুপীর মূল্য কমেগেছে। অন্যদিকে ইউএস ডলারের সাথে বাংলাদেশী টাকার মান স্থিতিশীল থাকায় ভারতীয় ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির আশংকায় বাংলাদেশ থেকে নতুন করে পন্য আমদানী করছে না। ফলে আখাউড়া স্থলবন্দরে রপ্তানী বন্ধের উপক্রম হয়েছে। ব্যাবসায়ীদের ক্ষতির বিষয়ের সাথে এক পোষন করে আখাউড়া স্থল বন্দরের কাস্টম কর্মকর্তা জানান,গত ২০১১-১২ অর্থবছরে আখাউড়া স্থলবন্দরে রপ্তানী আয় হয়েছিল ৩শ৬০ কোটি টাকা। সেই তুলনায় ২০১২-১৩ অর্থবছরে রপ্তানী আয় হয়েছে ৩শ কোটি টাকা। এ ক্ষেত্রে রপ্তানী কমেছে ৬০ কোটি টাকা। রপ্তানী আয় কমে আসার জন্যে হরতাল কেই অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উলে¬খ করেন শুল্ক ষ্টেশনের এই কর্মকর্তা।
