এক নজরে আমাদের জেলা

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৩, ১৯:৫৬
পরিচিতি ঃ নদী-মাতৃক বাংলাদেশের মধ্য পূর্বাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী তিতাস বিধৌত জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নামকরণ নিয়ে একাধিক মত রয়েছে। শোনা যায়, সেন বংশের রাজত্বকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অভিজাত ব্রাহ্মণকূলের অভাবে পূজা-অর্চনায় বিঘ্ন সৃষ্টি হতো। তাঁদের মধ্যে কিছু ব্রাহ্মণ পরিবার শহরের মৌলভীপাড়া বাড়ী তৈরি করে। সেই ব্রাহ্মণদের বাড়ির অবস্থানের কারণে এ জেলার নামকরণ ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া’ হয় বলে অনেকে বিশ্বাস করেন।অন্য একটি মতানুসারে দিলস্নী থেকে আগত ইসলাম ধর্ম প্রচারক শাহ্ সুফী হযরত কাজী মাহমুদ শাহ্ এ শহর থেকে উলেস্নখিত ব্রাহ্মণ পরিবার সমূহকে বেরিয়ে যাবার নির্দেশ প্রদান করেন, যা থেকে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া’ নামের উত্পত্তি হয়েছে বলে মনে করা হয়। পূর্ব ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্ত্ম সংলগ্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা স্বাধীনতার অনেক আগেই মহকুমা হিসাবে থাকার পর ১৯৮৪ সালের ১৫ই ফেব্রম্নয়ারি জেলা হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। শিল্প সংস্কৃতিতে, শিড়্গা-সাহিত্যে দেশের অন্যতম অগ্রণী জনপদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া। সুর সম্রাট ওসত্মাদ আলাউদ্দিন খাঁ, ওসত্মাদ আয়েত আলী খাঁ, ব্যারিস্টার এ রসুল, নবাব স্যার সৈয়দ শামসুল হুদা, কথা সাহিত্যিক অদ্বৈত মলস্নবর্মণ, কবি আবদুল কাদির, কবি আল মাহমুদ, সাংবাদিক আহমেদুর রহমান, আহমেদ হুমায়ুন, হাবিবুর রহমান মিলন, সৈয়দ আবদুল কাহ্হার, সামিউল আহমেদ খান ফটিকসহ বহু জ্ঞানী জন্মধন্য জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জাতীয় অর্থনীতিতেও ব্যাপক অবদান রাখছে। তিতাস গ্যাস ফিল্ড, সালদা গ্যাস ফিল্ড, আশুগঞ্জ সরকার কারখানা, আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুত্ কেন্দ্র প্রভৃতি ভারী শিল্প কারখানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অবস্থিত। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিল্প-সংস্কৃতির ধারক ও বাহক এবং দলমত নির্বিশেষে ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল মিলন মেলা হিসেবে এ দেশের মানচিত্রে বিশেষ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত।