বিপ্লবী উল্লাসকর জন্মেছিলেন ১৮৮৫ সালের ১৬ এপ্রিল। ত্রিপুরায় (বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা) সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ গ্রামে। তাঁর পািতার নাম দ্বিজদাস দত্ত। তিনি ছিলেন জাতীয়তাবাদী। দেশপ্রেম ও মানবদরদী পিতার যোগ্য উত্তরসূরী হতে পেরেছিলেন উল্লাসকর দত্ত। পড়াশুনার হাতেখড়ি পরিবারে। তারপর তিনি কলকাতার এাকটি স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পাশ করেন। এপর উল্লাসকর দ্ত্ত ১৯০৩ সালে প্রেসিডেন্সী কলেজে ভর্তি হল। তিনি মেধাবী ছাত্র ছিলেন। পাঠ্য বইয়ের বাইরেও তিনি প্রচুর বই পড়তেন। সংগীতে এবং ক্যারিকেচারে তাঁর ছিল দক্ষতা। এই কলেজে পড়াশুনাকালে ইংরেজ অধ্যাপক ড. রাসেলের এক অপমানকর উক্তির তিনি প্রতিবাদ করেন। একজন্য উল্লাসকরকে কলেজ হতে বহিষ্কার করা হয়। তখন থেকে লেখাপড়ার সমাপ্তি ঘটে। ১৯০৪ সালে শুরু হয় এক নতুন জীবন। এই সময়ে তিনি বিপ্লবীবাদী কর্মকান্ডের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। যে কাণে তিনি অল্পদিনের মধ্যে বারীন্দ্র ঘোষের বিপ্লবী দলে যুক্ত হল। ধীরে ধীরে উল্লাসকর দত্ত বিপ্লবী কর্মকান্ডের সার্বক্ষণিক কর্মী হয়ে ওঠেন। ১৯৩১ সালে আবারও তােঁক গ্রেফতার কর হয়। এসময় তাঁকে বিনাবিচারে ১৮ মাসের কারাদন্ড দেয়া হয়। মুক্তি পাওয়ার পর তিনি আর রাজনীতিতে যুক্ত হননি। দ্বীপান্তরে যাওয়ার পূর্বেই বিপিন চন্দ্র পালের বিধবা মেয়ে লীলাদেবীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। কিন্তু আলিপুর মামলার রায়ের কারণে তাদের আর ঘর-সংসার হয়ে উঠেনি। ১৯৪৮ সালে নিজের ৬৩ বছর বয়সে ৫৮ বছরের নিয়ে জীবনের বাকী দিনগুলো কাটানোর সিদ্ধান্ত নিলেন উল্লাসকর দত্ত। ১৯৬৪ সালের ১৭ মে তিনিও চলে গেলেন আমাদের স্মৃতির পাতায়।
