যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার সঙ্গে দেখা করেছেন মালালা ইউসুফজাই। মেয়েশিশুদের শিক্ষার অধিকার নিয়ে মালালার কাজকে ‘উদ্দীপক এবং উত্সাহব্যঞ্জক’ বলে বর্ণনা করে তাকে ধন্যবাদ দিয়েছেন ওবামা। ওভাল অফিসে ওই সাক্ষাত্কার অনুষ্ঠানে ওবামার বড় মেয়ে ১৫ বছর বয়সী মালিয়াও উপস্থিত ছিলেন বলে বিবিসি জানিয়েছে।
১৬ বছর বয়সী মালালা মেয়েশিশুদের শিক্ষার অধিকার নিয়ে সোচ্চার হওয়ায় এবং ব্লগে তালেবানের বিরুদ্ধে লেখালেখি করায় ২০১২ সালের অক্টোবরে জঙ্গিরা স্কুলবাসে উঠে তার মাথায় গুলি করে। পরবর্তী সময়ে ইংল্যান্ডে চিকিত্সা গ্রহণ করে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি।
এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে বলা হয়, মালালার সাহসকে যুক্তরাষ্ট্র অভিনন্দিত করে এবং মেয়েদের স্কুলে উপস্থিত থাকার অধিকার নিয়ে কাজ করার সংকল্প করছে। ফার্স্ট লেডি বলেছেন, মেয়েদের শিক্ষার জন্য বিনিয়োগ করাটা সবচেয়ে ভালো কাজগুলোর একটি যা আমরা করতে পারি। আর এটা শুধু আমাদের মেয়ে বা নাতনির জন্য নয় বরং তাদের পরিবার, তাদের সমাজ এবং তাদের দেশের জন্য। বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্মানজনক মানবাধিকার পুরস্কার শাখারভ জেতেন মালালা। এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মালালা ছিলেন শীর্ষে উচ্চারিত নাম।
পাকিস্তানের পাহাড়ী অঞ্চল সোয়াতের মেয়ে মালালা ২০০৯ সালে বিবিসি উর্দু সার্ভিসের ব্লগে তালেবান গোষ্ঠীর অধীনে তার জীবন এবং এই গোষ্ঠী তার মতো মেয়েশিশুদের কিভাবে স্কুলে যেতে বাধা দিচ্ছে সেই বিষয়ের ওপর একটি লেখা লেখেন। ওই বছরই পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তালেবান গোষ্ঠীকে ওই এলাকা থেকে বিতাড়িত করলে আন্তর্জাতিক মহলে মালালার নাম ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে পরিবারসহ বসবাস করছেন মালালা। সেখানেই একটি স্কুলে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
