বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য গার্মেন্টস রপ্তানিতে ভারত সরকার সব ধরনের শুল্ক প্রত্যাহার করলেও রাজ্যভেদে ১৫ শতাংশ কাউন্টারভেলিং শুল্ক আরোপ রয়েছে। ফলে দেশটিতে শুল্কমুক্ত রপ্তানির প্রকৃত সুবিধা নিতে পারছে না বাংলাদেশ। আগামী ২১ তারিখে ঢাকায় শুরু হওয়া উভয় দেশের কাস্টম কর্মকর্তাদের বৈঠকে বিষয়টির সমাধান চাইবে বাংলাদেশ। এছাড়া বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশি মান সনদ ভারত সরকার কর্তৃক গ্রহণ করা, ভারতীয় শুল্ক স্টেশনের অবকাঠামো মান উন্নয়ন করারও দাবি সম্বলিত ইস্যুগুলোও তুলবে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ ও ভারতের শুল্ক সম্পর্কিত বিষয়াদি দেখভাল করার লক্ষ্যে উভয় দেশের শুল্ক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে জয়েন্ট গ্রুপ অব কাস্টমস বা জেজিওসি গঠিত হয়েছে। ওই কমিটির দুই দিনব্যাপী নবম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে রাজধানীর হোটেল রূপসী বাংলায়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেয়ার কথা রয়েছে এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন ও ভারতের রাজস্ব সচিব সুমিত বোস। ইতিমধ্যে উভয় দেশ বৈঠকের এজেন্ডা চূড়ান্ত করেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের তরফে ১৭টি এজেন্ডা ও ভারতের পক্ষ থেকে ১৫টি এজেন্ডা ঠিক করা হয়েছে।
সুত্র জানায়, ভারতের সব রাজ্যে পণ্যের মান যাচাইয়ের জন্য পর্যাপ্ত টেস্টিং সুবিধা নেই। ভারতের পেট্রাপোল ও গেদে শুল্ক স্টেশন ছাড়া যে সব শুল্ক স্টেশনে এই সুবিধা নেই তার উন্নয়ন করা, এ সম্পর্কিত তথ্যাদি বিনিময় করা, সব স্টেশনে কার যাতায়াতের সুবিধা অবাধ করা, গেদে স্টেশনে (দর্শনার ওপারের স্টেশন) শুল্ক পরীক্ষার পয়েন্ট আরো কমিয়ে আনার বিষয়েও বাংলাদেশ আলোচনায় আগ্রহী।
বৈঠকে ভারতও বাংলাদেশের কাছে কয়েকটি সুবিধা চাইবে। এর মধ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একটি সড়ক নির্মাণের বিষয়টি তাদের মূল দাবি হিসেবে থাকবে। বাংলাদেশের ১ হাজার ২৩৪ নং পিলার অংশে ভারতের মেঘালয়ের পূর্ব খাসি হিলের ইছামতি-বেলতলি গ্রাম হয়ে বাংলাদেশের লুবিয়া গ্রামের মধ্যে এই সড়কটি নির্মাণের দাবি জানাবে ভারত।
তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, যেহেতু এটি যেহেতু এটি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কাজ সেজন্য এ বিষয়ে শুল্ক কর্মকর্তারা বিশেষ কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারবে না। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলাপ আলোচনা করে রেখেছে এনবিআরের শুল্ক বিভাগ।
সূত্র জানায়, গত বছর জেজিওসি’র অষ্টম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে ভারতের কলকাতায়। ওই বৈঠকে বেশকিছু সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তবায়নে বিশেষ অগ্রগতি হয়নি। এ বিষয়টিও আলোচনার টেবিলে আনবে বাংলাদেশ।
