কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে সীমান্ত বাণিজ্যের আওতায় করিডোর দিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে গবাদিপশুর চালান আসছে। আমদানিকৃত গরুর একাংশ উখিয়া হাট-বাজারে বিক্রি হলেও অধিকাংশ গরু উত্তরাঞ্চলে চালান হচ্ছে। এসব গবাদিপশু স্থানীয়ভাবে চাহিদা পূরণ না হলেও দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে বলে ক্রেতাদের অভিমত। তবে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে চোরাই পথে আসা গরু, মহিষ, ছাগল স্থানীয়ভাবে চাহিদা পূরণ করলেও ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজি করে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি মিয়ানমার থেকে গরু আসলে একদিকে যেমন চামড়া শিল্পের ঘাটতি পূরণের সহায়তা লাভ করবে একইভাবে স্থানীয় জনসাধারণ স্বাচ্ছন্দ্যে কোরবানীতে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাবে। তাই চাঁদাবাজি প্রতিরোধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হউক। জানা গেছে, সরকার গবাদিপশুর চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্ত বাণিজ্যের আওতায় গরু, মহিষ আমদানির ফলে একদিকে যেমন সরকার প্রচুর পরিমাণ রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হচ্ছে, অন্যদিকে সহনীয় দামে গরু কোরবানী দিতে পারছে স্থানীয়রা। আসন্ন কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে শাহপরীরদ্বীপ করিডোর দিয়ে আসা সীমান্ত বাণিজ্যের অধিকাংশ গরু, মহিষ, ছাগল দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন হাট-বাজারে সরাসরি চালান হওয়ার সুবাদে এখানে গবাদিপশুর সংকট পূরণ হচ্ছে না। ফলে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে চোরাই পথে আসা গরু, ছাগল ও মহিষ কোরবানী ইচ্ছুক সর্বসাধারণ মনের চাহিদা অনুযায়ী কোরবানী দিতে সক্ষম হচ্ছে। এমতাবস্থায়, সীমান্তের ওই সব পয়েন্ট দিয়ে স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তি গণহারে চাঁদা আদায় করে পশু পাচারে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রুমখাঁ লম্বরীপাড়া গ্রামের গরু ব্যবসায়ী আমির হোছন জানান, উখিয়া সীমান্তের ডেইলপাড়া, ফাত্রাঝিরি ও গর্জনবনিয়া সীমান্ত দিয়ে গবাদিপশু আসার সময় স্থানীয় কতিপয় দালাল চক্র বিজিবি, পুলিশ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদা আদায় করে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছে। এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে আমতলী বিজিবির সুবেদার সোহরাব হোসেন জানান, এ ধরনের অভিযোগ তিনিও শুনেছেন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে রুমখাপালং ঐতিহ্যবাহী গরুর বাজার ঘুরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মিয়ানমার থেকে গরু আসার কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি কোরবানীর ঈদ মৌসুমে পশুর দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। ক্রেতা সাধারণ তাদের ইচ্ছামতো স্বাচ্ছন্দ্যে গরু ক্রয় করে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছে। বাজারের টোল আদায়কারী মাহামুদুল হক জানান, ব্যবসায়ীরা যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্য সরকার নির্ধারিত টোলের চাইতেও গরু প্রতি টোল আদায় করা হচ্ছে।
