সিরিয়ায় বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস কার্যক্রম পরিচালনা করা কতটা সহজতর হবে সে বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংগঠনের (ওপিসিডব্লিউ) প্রধান আহমেত উজুমকু। এই মিশনকে সহযোগিতা করার জন্য সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল সোমবার বিবিসি’র একটি অনুষ্ঠানে দেয়া সাক্ষাত্কারে উজুমকু এসব কথা বলেন। এদিকে সোমবার সিরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে রাসায়নিক অস্ত্র সম্মেলনে যোগ দিয়েছে। ওদিকে সিরিয়া বিষয়ে আসন্ন জেনেভা সম্মেলনে দেশটির বিরোধী দল অংশ নেবে না বলে রবিবার দলের প্রধান জর্জ সাবরা জানিয়েছেন।
গত সপ্তাহে সংগঠনটিকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়ার ঘোষণার পর এই প্রথম তিনি কোন সাক্ষাত্কার দিলেন। উজুমকু বলেন, এ পুরস্কার সিরিয়ায় আমাদের কাজকে আরো উত্সাহিত করবে এবং দলের মনোবল আরো বাড়িয়ে দেবে। সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, আসাদ সরকার বিশেষজ্ঞ দলকে যথেষ্ট পরিমাণ সহযোগিতা ও সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই রাসায়নিক অস্ত্র উত্পাদন করতে সক্ষম অন্ততপক্ষে এমন ২০টি কারখানার মধ্যে ৫টিতে তারা কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা করতে পেরেছে। তিনি আরো বলেন, যে কাজ করতে এসেছি তা এমনিতেই অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। তাই আমরা উভয়পক্ষকেই আবেদন জানিয়েছি তারা যেন আমাদের কাজকে আরো জটিল করে না তোলে। এবং মিশনকে সম্পূর্ণ করতে সাহায্য ও সমর্থনের কথাও জানান তিনি। ওপিসিডব্লিউ’র প্রধান বলেন, আমরা জানি বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় আমাদের প্রবেশ করা কঠিন। তবে সেসব স্থানে আমরা কার্যক্রম চালাতে পারি কি না সে বিষয়ে তত্পর থাকব। এছাড়া সম্প্রতি তার দল যাতে নির্বিঘ্নে রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারে সেজন্য দেশটিতে যুদ্ধ বিরতির আহ্বান জানান।
এদিকে পান-আরব আল-মায়াদিন টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে দেশটির বিরোধী দল সিরিয়ান ন্যাশনাল কোয়ালিশনের (এসএনসি) প্রধান সাবরা বলেছেন, নভেম্বরের মাঝামাঝি অনুষ্ঠিতব্য জেনেভা সম্মেলনে কোয়ালিশন অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিলে সে তার সমর্থন প্রত্যাহার করে নেবে। সিরিয়ার বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে এসএনসি সম্মেলনে যাবে না। এর আগে এ সম্মেলনকে সংকট নিরসনে রাজনৈতিক সমাধানের একটি নতুন পথ বলে উল্লেখ করে দলটি।
