কঠিন সমীকরণের সামনে ইংল্যান্ড-ফ্রান্স-পর্তুগাল

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০১৩, ২১:২৯
প্লে অফের শঙ্কা মাথায় নিয়ে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের সর্বশেষ ম্যাচে আজ মাঠে নামছে ইউরোপের অন্যতম সেরা তিন দল ইংল্যান্ড, ফ্রান্স এবং পর্তুগাল। নিজেদের মাঠে আজ তাদের প্রতিপক্ষ যথাক্রমে পোল্যান্ড, ফিনল্যান্ড এবং লুক্সেমবার্গ। একই রাতে মাঠে নামছে তুলনামূলক বিচারে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা ইতালি, স্পেন এবং এরই মাঝে ব্রাজিলের টিকেট নিশ্চিত করে ফেলা জার্মানি, বেলজিয়ামও। ওয়েইন রুনি, ড্যানিয়েল স্টারিজদের দুরন্ত পারফরম্যান্সে সর্বশেষ ম্যাচে মন্টেনেগ্রোকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেয়া ইংল্যান্ড সরাসরি বিশ্বকাপে পৌঁছাতে হলে জিততে হবে আজকের ম্যাচেও। যদি আজ ইংল্যান্ড পয়েন্ট খোয়ায় এবং এইচ গ্রুপের অন্য ম্যাচে ইউক্রেন স্যান মেরিনোকে পরাজিত করে সেক্ষেত্রে আজ রাতেই চূড়ান্তপর্বে পৌঁছে যাবে ইউক্রেন। আর তাই আজ রাতে জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবতেই চাইছেন না ইংল্যান্ড অধিনায়ক স্টিফেন জেরার্ড। ইউক্রেনের কাছে আগের ম্যাচ হেরে পোল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হয়ে গেলেও প্রতিপক্ষকে মোটেই হালকাভাবে নিতে নারাজ জেরার্ড। তীরে এসে যেন তরী না ডোবে এই বলে সতীর্থদের সতর্কও করে দিয়েছেন তিনি, ‘আমাদের কাজ মাত্র অর্ধেক শেষ হয়েছে। কোন সন্দেহ নেই পোল্যান্ড দারুণ একটি দল। তারা এখানে এসে তাদের সেরাটাই ঢেলে দিতে চাইবে। মন্টেনেগ্রোর মতোও তারাও চাইবে প্রতি পদে আমাদের বিপদে ফেলতে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে গত শুক্রবারের মতোই নিজেদের সেরা খেলাটাই আমরা খেলছি।’ পরিসংখ্যানের দিকে চোখ রাখলে জেরার্ড-ল্যাম্পার্ডরা অবশ্য আশাবাদী হতেই পারেন। কারণ, ২০০৭ এ ক্রোয়েশিয়ার কাছে ৩-২ গোলে হারের পর এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অপরাজিতই আছে তারা। আর প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে তাদের সর্বশেষ হারটি এসেছে ওয়েম্বলিতে জার্মানির বিরুদ্ধে ২০১০ সালে। আজ রাতেই মাঠে নামছে ১৯৯৮’র চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সও। ঘরের মাঠে দিদিয়ের দেশমের দলের প্রতিপক্ষ ফিনল্যান্ড। স্পেনের চেয়ে তিন পয়েন্ট কম নিয়ে আই গ্রুপের পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফরাসিদের বিশ্বকাপের মূল পর্বে যেতে প্লে-অফের বৈতরণী পার হতে হবে সে বিষয়টি প্রায় নিশ্চিতই। কারণ, ব্রাজিলের টিকেট পেতে মাত্র একটি পয়েন্টই দরকার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের। আর প্রতি গ্রুপ থেকে সরাসরি চূড়ান্তপর্বে খেলবে একটি দলই। আজ রাতে স্পেনের প্রতিপক্ষ তুলনামূলক বিচারে দুর্বল প্রতিপক্ষ জর্জিয়া। স্পেনকে টপকে ফ্রান্স যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে চায় সেক্ষেত্রে তাদের জিততে হবে কমপক্ষে চার গোলের ব্যবধানে। পাশাপাশি স্পেনকেও হারতে হবে। তবে বাছাইপর্বে সর্বশেষ ৫২ ম্যাচ ধরে অপরাজিত বিশ্ব এবং ইউরো চ্যাম্পিয়নরা জর্জিয়ার বিরুদ্ধে হারবে এমনটা চিন্তা করাটা বোধ হয় বাড়াবাড়িই। গত শুক্রবার প্রীতি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দেয়া ফ্রান্স ঐ ম্যাচের ফর্ম ধরে রাখতে চায় আজও। প্রায় দেড় বছর পর জাতীয় দলের জার্সি গায়ে গোলের দেখা পাওয়া করিম বেনজামাও চান দারুণ কিছু করেই বাছাইপর্ব শেষ করতে। তবে আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে শেষ পর্যন্ত প্লেঅফের ঝামেলায় পরতেই হচ্ছে তাদের। লুক্সেমবার্গকে হারাতে পারলে অন্তত প্লেঅফ নিশ্চিত হবে, এমনই এক সমীকরণ সামনে রেখে শেষ ম্যাচে মাঠে নামছে পর্তুগাল। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে দলটি পাচ্ছে না দুই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং পেপেকে। হলুদ কার্ডের খাড়ায় পরে ম্যাচটি মিস করতে যাচ্ছেন তারা। অবশ্য, এই ম্যাচ জিতলে প্লেঅফে মাঠে নামতে পারবেন তারা। তবে গুরুত্বপূর্ণ দুই সদস্যকে না পেলেও জয়ের বিকল্প কিছু ভাবছেন না পর্তুগাল কোচ বেন্তো। সর্বশেষ তিনটি বিশ্বকাপের চূড়ান্তপর্বে খেলা লুই ফিগো-ইউসেবিও’র দেশ ব্রাজিলের টিকেটও নিশ্চিত করতে পারবে তেমনটাই বিশ্বাস করছেন তিনি। আর লুক্সেমবার্গের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিচার করলে আশাবাদী হতেই পারেন তিনি। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন রাশিয়ার কাছে গত শুক্রবার ৪-০ গোলে হারা লুক্সেমবার্গ এই মুহূর্তে পয়েন্ট টেবিলের সর্বশেষ স্থানে অবস্থান করছে। আর পর্তুগালের চেয়ে তিন পয়েন্ট বেশি নিয়ে চূড়ান্তপর্ব অনেকটাই নিশ্চিত করে ফেলেছে রাশিয়া। আজ রাতেই মাঠে নামছে ব্রাজিলের পথে এক পা দিয়ে রাখা ইতালি এবং নেদারল্যান্ডসও। ডি গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে থাকা তুরস্কের চেয়ে ১৫ পয়েন্টের বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা রবিন ফন পার্সির দলের উত্তরণ অনেকটাই নিশ্চিত। তুরস্কের সামনেও দারুণ সুযোগ প্লেঅফে খেলার। অন্যদিকে আগের ম্যাচে ডেনমার্কের সাথে ড্র করা ইতালিও প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে অষ্টাদশবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার বিষয়টি।