গৃহবধূ কানিজ থাকেন ওয়ারীতে। ঘরের কাছে একটি সুপার শপ থেকে তিনি তেল, মসলা, ভিনেগার, আর চিনি গুঁড়া চাল কিনলেন। এই প্রতিবেদককে কানিজ বলেন, আজ ওয়ারীতে স্বপ্ন ও বিগ বাজার, আগোরা, মীনা বাজারের মতো সুপার শপগুলোর আউটলেট হওয়ায় এই বয়সে ঘুরে ফিরে ঈদের বাজার করতে পারছেন। যা তার মা পারেন নি।সত্যি তাই নগরবাসীর জীবন মান উন্নয়ন এবং সহজ করতে এই সুপার শপগুলো বিশেষ ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য করেন রহিম আফরোজ সুপার সেন্টার লিমিটেড এবং আগোরার মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ মাকসুদুর রহমান। গতকাল আসন্ন ঈদুল আজহাকে উপলক্ষ করে নগরীর প্রত্যেকটি সুপার শপে ভির লক্ষ্য করাগেছে। ক্রেতারা জানান, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনায় সুন্দর পরিবেশে ‘সুপার শপ’ নামক বাজার ব্যবস্থা নারীদের বাজার করার বিশেষ সুযোগ করে দিচ্ছে। যা ইতিমধ্যে দেশের জেলা শহর গুলোতেও বিস্তৃতি লাভ করেছে। খোলা বাজার অপেক্ষা ঝুক্কি-ঝামেলা এড়িয়ে প্রায় একই দামে মান সম্পন্ন, সঠিক পরিমানে বাজার করা যায় বলে নগরবাসীর কাছে সুপার শপগুলো আর বিলাসিতা নয়, প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা। দুই একজন ক্রেতা সুপার সপের দাম নিয়ে অভিযোগ করলেও কর্তৃপক্ষ জানান, দামতো বেশি নয়ই বরং তেল, পিয়াঁজ, চাল মসলায় তাদের বিশেষ কিছু মূল্য চাড় আছে, আর আছে ঈদ উপলক্ষে বিশেষ অফার।
গুলশান আগোরায় টক দৈ, ভিনেগার, উস্টার আর সয়া সশ কিনলেন রিতা মেহজাবিন। তিনি জানান, কোরবানির ঈদ বলে নিজের হাতে তিনি রান্না করাবেন। এমনিতে ব্যাংকের চাকরি তাকে সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে। অফিস শেষে একবারে বেশি বাজার না করে কয়েক ভাগে বাজার করে ফেলছেন তিনি। একই আউট লেটে এসেছেন মা-মেয়ে রোকেয়া বেগম ও রিমি। তারা মসলা, কোল-ড্রিংস, আর কিছু মাছ কিনলেন। রোকেয়া জানান তিনি বেশি মাংস পছন্দ করেন না বলে মাছ কিনলেন। এখানে তারা বেশ কিছু ছাড়ও পেলেন।
আগোরা গুলশান শাখার ইনচার্জ মোঃ সেহেল রানা জানান গত তিন দিন ধরে তাদের শাখায় ঈদের বাজার করছেন ক্রেতারা। তারা ক্রেতাদের বেশ কিছু ঈদ অফারও দিচ্ছেন। তিনি বলেন, একজন ভিসা কার্ডধারী ক্রেতা তার বাজারে উপর ৭ শতাংশ ছাড় পাচ্ছেন। আর যাদের আগোরা মেম্বার শিপ কার্ড আছে তারা আরও ৩ শতাংশ ছাড় পাচ্ছেন। সোহেল বলেন, ঈদের এই সময়টাতে তাদের ক্রেতা চাহিদা অনেক বেশি থাকে। মীনাবাজার বনানীতেও একই অবস্থা। ক্রেতাদের ভিড় সামাল দিতে বেশ বেগপেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষের। ধানমন্ডির মীনা বাজারে বাজার করলেন প্রোকৌশলী জুবায়ের। সাথে তিনি ছোট্ট ছেলে নিয়ে এসেছেন। জুবায়ের জানান, তিনি এবং তার পরিবারের সকলেই এমন সুপার সপ থেকে বাজার করেন। কারণ টিভিতে রান্নার অনুষ্ঠান দেখে তিনি যে রান্না শেখেন তার সব সমলা এখানে পাওয়া যায়। ঈদে তিনি নিজেও কিছু রান্না করবেন। ঈদ উপলক্ষে মীনা বাজারও দিচ্ছে মুরগী, মসলা, তেল, কোল ড্রিংস ও ঘিয়ের উপর বিশেষ মূল্য ছাড়।
নিজেদের ওয়ারীর প্রথম রিটেল সপ দাবি করে বিগ বাজারের ব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বেশ কিছু বড় কোম্পানির সহযোগিতায় তাদের আছে ক্রেতাদের জন্য ঈদ অফার। আর বিকেল ৪টা থেকে পাঁচটার মধ্যে বাজার করলেও ডোভ শ্যাম্পুর সাথে কন্ডিশনার , ফেয়ার এন্ড লাভলীর ১৩০ টাকা ছাড়, দুটি সার্ফ এক্সএল এর সাথে একটি, ৪টি লাক্সের সাথে একটি লাক্স, ৪টি ভিমবারের সাথে একটি ভিম লিকুইড ফ্রিসহ থাকছে বেশ কিছু নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য নিয়ে ঈদের ঘন্টা বাজার অফার।
‘কষ্টের টাকায় শ্রেষ্ট বাজর’ শ্লোগান নিয়ে যাত্রা শুরু করে স্বপ্ন। তাদের দাবি উত্পন্ন পণ্য চাষির কাছ থেকে সরাসরি তাদের কাছে আসে এবং তাদের ক্রেতার সংখা বেশি হওয়ায় বাজারের চেয়েও কম দামে পন্য বিকি করেন তারা। এ বিষয় স্বপ্ন জোন পাঁচের এরিয়া ম্যনেজার সমীর কুমার ঘোষ বলেন প্রতিদিন আমারা ১০ টন চাল বিক্রি করে কেজিতে ৫০ পয়সা করে লাভ হলেই অনেক। আর শুধু উচ্চ কিংবা মধ্যবিত্ত নয় সকল শ্রেণীর ক্রেতাই আমাদের লক্ষ্য। আর আগোরার মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ, রহিম আফরোজ সুপার সেন্টার লিমিটেডের মাকসুদুর রহমান বলেন, যে সকল পরিবারে স্বামী-স্ত্রী দু’জনই চাকরিজিবী তাদের সারাদিন ব্যস্ততার ফলে বাজার করার সময় হয় না। অগত্যা শক্রবারের ছুটির দিনটিও তাদের নানা ব্যস্ততায় সময় কাটে। তাদের এক জায়গায় সব বাজার করার সুবিধা দেয়া এবং যে সকল মায়েরা চাকরি করেন না কিন্তু বাচ্চাকে পড়াশুনা আর সংসারের দায়িতে ব্যস্ত থাকেন তাদের কথা মনে করে এই সুপার সপগুলো আত্ন প্রকাশ করলেও এখন সকল শ্রেণির সকল মানুষের বাজার করার অন্যতম স্থানে পরিণত হয়েছে এই সুপার শপগুলো। তাই ঈদ রোজা, বর্ষবরণ তো বটেই প্রতিদিনের বাজার করছেন তারা এখান থেকে।
