এক সময় ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ভাবতেন শুধু সওদাগররা। ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়াতেন আর বন্দরে বন্দরে নোঙর ফেলতেন। আলাদিনের ধনসম্পদ আর সব খরচাপাতির হিসাব থাকত তার বিশাল আকারের জিনের কাছে; কিন্তু এখন সারা বিশ্বের ব্যবসা-বাণিজ্যের হিসাব-নিকাশ থাকে ব্যবসায় প্রশাসন পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কাছে। দিন পুরোই বদলে গেছে। আদিকালের ব্যবসার ধরন এখন বিশ্বায়নের এই যুগে আমূল বদলে গেছে। মানুষ নাকি এখন মহাশূন্যেও ব্যবসা করতে চায়। কাল পরিক্রমায় বিশ্বায়নের এই যুগে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্র বাড়ছে দ্রুত গতিতে। ব্যবসায় শিক্ষার নানা কৌশল আর বাণিজ্যের গতি প্রকৃতিই শিক্ষায় রূপ নিয়েছে। দিনদিন নতুন তথ্য আর কৌশল অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে ব্যবসায় প্রশাসন বিষয়গুলোতে। বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটে বিবিএ এবং এমবিএ পড়ার সুযোগ রয়েছে। রয়েছে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ।
শুধু বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাই নয় অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও ঝুঁকছেন বিবিএ-এমবিএ ডিগ্রির প্রতি। এই ডিগ্রি এখন যুগের চাহিদা। ব্যাংক, বীমা, এনজিও, প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে এ ডিগ্রি ছাড়া চলেই না। চাকরির সাথে রয়েছে এর আলাদা স্ট্যাটাস। অন্য বিষয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর করার পরও অনেকেই করে নিচ্ছেন এমবিএ কোর্স। দিন যতই সামনে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ ততই বাণিজ্যিকীকরণ হচ্ছে। সেক্ষেত্রে এ ডিগ্রির চাহিদাও দিনদিন বেড়ে চলছে। বাণিজ্যের সাথে সম্পৃক্ত প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের চাকরির বিজ্ঞাপনেও ডিগ্রির কথা থাকে উল্লেখ করা।
দেশে অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ এবং এমবিএ ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থেকে বিবিএ এবং এমবিএ ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এসব ইনস্টিটিউটে পড়ার সুযোগ পাওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রতিযোগিতা করতে হয় শিক্ষার্থীদের। বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থী ছাড়াও বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা ভর্তি প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এছাড়া বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন এমবিএ কোর্স চালু রয়েছে। এসব নির্দিষ্ট মেয়াদি এমবিএ কোর্স শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি চাকরিজীবীরাও করছেন।
তবে চাহিদার তুলনায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংখ্যা অনেক কম। তাই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসা প্রশাসনে ভর্তি হওয়াটাকে ভাগ্য বলে দাবি করেছেন একাধিক এইচএসসি উত্তীর্ণ বাণিজ্য শাখার শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি প্রতিযোগিতা করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেতে হয়। বিজ্ঞান ও মানবিক শাখার শিক্ষার্থীদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার অনেক সুযোগ রয়েছে। কারণ এদের প্রচুর আসন সংখ্যা রয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের আসন সংখ্যা আরো বাড়ানো উচিত বলে মনে করেন তারা।
দেশে অর্ধশতাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও এ ডিগ্রি প্রদান করা হচ্ছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন ঘাটতির একটা বড় অংশ পূরণ হচ্ছে এসব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি প্রদানের জন্য।
