গ্যাস বিদ্যুত্ সংকটের আশংকা

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৩৪
ঈদে চাহিদা কম থাকলেও বিদ্যুত্-গ্যাসের সংকট নিয়েই এই সময় পার করতে হবে। দুটি গ্যাসক্ষেত্র বন্ধ থাকবে। বিদ্যুত্ উত্পাদনেও এর প্রভাব পড়বে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, এতে করে কোন সমস্যা হবে না। চাহিদামত বিদ্যুত্-গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে। সংস্কারের জন্য দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্রের একটি বিবিয়ানা আজ মঙ্গলবার থেকে পুরো বন্ধ হবে। আগামী শনিবার পর্যন্ত একটানা এই ক্ষেত্র বন্ধ থাকবে। এখান থেকে ৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে না। অন্যদিকে বাঙ্গুরা গ্যাসক্ষেত্র বন্ধ রাখা হবে ২১ থেকে ২৫শে অক্টোবর পর্যন্ত। এই ক্ষেত্র থেকে পাওয়া যায় ১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। একই সময়ে আশুগঞ্জ কমেপ্রস্ার স্থাপনের জন্য চট্টগ্রামে যে গ্যাস সরবরাহ করা হয় তার অর্ধেক দেয়া হবে। সবমিলিয়ে গ্যাস-বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকলেও সে অনুযায়ী সরবরাহ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। দেশে এখন গড়ে প্রতিদিন ২৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উত্পাদন হয়। এরমধ্যে বিবিয়ানা থেকে ৮০ কোটি এবং বাঙ্গুরা থেকে ১০ কোটি মোট ৯০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উত্পাদন হবে না। ফলে সরবরাহ হবে ১৪০ কোটি ঘনফুট। যা স্বাভাবিক চাহিদার প্রায় অর্ধেক। পেট্রোবাংলা বলছে, ঈদের সময় প্রায় সব কলকারখানা বন্ধ থাকে। চাহিদা থাকে অনেক কম। ফলে এই সময় নিয়মিত সংস্কারের কাজ সেরেফেলাই ভাল। অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে পূজা ও ঈদের কারণে শিল্পে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে গ্যাস ও বিদ্যুতের চাহিদা কমে যাবে। ফলে গ্যাসক্ষেত্রগুলো সংস্কার করলেও তেমন সংকট হবে না। এছাড়া গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্রগুলো গ্যাস সংকটের কারণে কম বিদ্যুত্ উত্পাদন করলেও ভারত থেকে প্রায় ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কারণে বিদ্যুতের ঘাটতিও কম হবে। বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র পরিচালনাকারী কোম্পানি শেভরন জানিয়েছে, বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র নিয়মিত সংস্কারের জন্য বন্ধ রাখা হবে। এসময় সাময়িকভাবে এক্ষেত্রের উত্পাদন বন্ধ থাকবে। তবে জালালাবাদ ও মৌলভীবাজার ক্ষেত্র থেকে যতদূর সম্ভব বেশি উত্পাদন করার চেষ্টা করা হবে। ২০ অক্টোবর থেকে বিবিয়ানা পুরো উত্পাদনে আসবে বলে তারা আশা করেন। গত কয়েকদিন গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট বেড়েছে। এই গ্যাস ঘাটতি কমাতে গত মাসে তিতাস গ্যাস কোম্পানি পেট্রোবাংলার কাছে ১৫ কোটি ঘনফুট বাড়তি গ্যাস সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে। বর্তমানে ১৯০ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে ১৪৫ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাস পায় তিতাসের গ্রাহকরা। গ্যাস ঘাটতির পাশাপাশি বিদ্যুতের লোডশেডিংও বেড়ে গেছে। পিডিবি জানায়, আরো ১৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন থাকলেও বর্তমানে এই খাতে ৮৪ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। গ্যাস ঘাটতির কারণে বন্ধ আছে চট্টগ্রামের বেশিরভাগ গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুকেন্দ্র। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুর বলেন, বিবিয়ানার পর আবার আশুগঞ্জে কম্প্রেসার বসানোর কাজ শুরু হবে। এজন্য চার/পাঁচদিন চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ অর্ধেক কমে যাবে। তবে কম্প্রেসার বসানো হলে চট্টগ্রামে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়বে।