মুখ বেকে যাওয়া সমস্যা

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০১৩, ১৭:২৩
চেয়ারম্যান, ডিপিআরসি সকালে ঘুম থেকে উঠে মুখ ব্রাশ ও মুখ ধোয়ার জন্য বেসিনের আয়নার সামনে দাড়িয়ে অবাক, একি! এক দিকে চোখ বন্ধ হচ্ছেনা, হা করতেই মুখ বেঁকে যাচ্ছে, মুখে পানি নিলে মুখ থেকে পড়ে যাচ্ছে, গাল ফুলাতে পারছেন না, কপাল বা ভ্রু কুচকাতে পারছেন না, কি হলো? নিশ্চই ঘাবড়ে গেছেন। ঘাবড়ানোর কিছুই নেই। এরকম সমস্যায় যদি কেউ পড়েন তবে বুঝতে হবে আপনার মুখের নার্ভে এমন কোন সমস্যা হয়েছে যার ফলে আপনার মুখের মাংস পেশী তার স্বাভাবিক কাজ কর্মের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। যাকে ডাক্তারী ভাষায় ফেসিয়াল বা বেল্স পলসি বলে বা মুখ অবশ রোগ নামে পরিচিত। মানুষের মুখ মন্ডল এক বিশেষ ধরণের মাংস পেশী দ্ব্বারা তৈরী যার সাহায্যে মানুষ মুখের মাংস পেশীর সংকোচন ও প্রশারণ দ্বারা কথা না বলেও মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে, আর এ জন্য একটি শিল্পের সৃষ্টি হয়েছে যার নাম মুখাভিনয় শিল্প। মুখ মন্ডলে মানুষের সৌন্দর্য ও দৈনন্দিন কাজের সুবিধার জন্য বিভিন্ন প্রয়োজনীয় অঙ্গ যেমন- মুখ, নাক, চোখ, কপাল, কান ইত্যাদি স্থাপন করেছেন। এই অঙ্গের সাহায্যে মানুষ তার পরিচিতসহ খাওয়া-দাওয়া, কথা বলা, শ্বাস গ্রহণ করা, দেখা, শোনার মত গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ করেন। এই সব কাজ সঠিক ভাবে সম্পাদনের জন্য মুখে কিছু সংখ্যক নির্দিষ্ট মাংস পেশী স্থাপন করা হয়েছে এবং ঐ সব মাংশ পেশীকে আদেশ নির্দেশ প্রদানের জন্য মগজ থেকে কানের পাশ দিয়ে নেমে সপ্তম ক্রেনিয়াল বা ফেসিয়াল নার্ভ ৫ টি ভাগে বিভক্ত হয়ে মুখমন্ডলে বিভিন্ন মাংস পেশীকে সচল রাখে। কোন কারণ বশত উক্ত মস্তিকের ক্রেনিয়েল বা ফেসিয়াল নার্ভে প্রদাহ, প্রতিবন্ধকতা বা কোন প্রকার আঘাত পেলে নার্ভ তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। যদিও ফেসিয়াল পলিসি এর সঠিক কারণ নির্ণয় অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন। তবে ফেসিয়াল নার্ভের- ভাইরাস আক্রমণ, অতিরিক্ত ঠান্ডায় আঘাত, ষ্ট্রোক, এসব এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। এবার চলুন জেনে নেওয়া যাক মুখ মন্ডলে স্বাভাবিক কাজ কর্মের কি কি প্রধান মাংস পেশী এবং তার কাজ। ১. অক্সিপিটর ফ্রন্টালিস-ব্রু উপরে উঠায় ২.করোগেটর ও প্রসেসিস-ব্রু কুচকায় ৩.অরবিকুলার অকুলি চোখ বন্ধ করে ৪. জাইগো মেট্রিক-মেজর ও মাইন (উপরের ঠোট সহ মুখের কোনা উপরে উঠায়) ৫. বাক্সিনেটর-গাল ফুলায়, চুষতে সহায়তা করে। হঠাত্ করেই এ রোগে যে কেউ আক্রান্ত হতে পারে। আক্রান্ত হওয়ার আগে অনেক সময় মাথা ব্যথা সহ আক্রান্ত পাশের কানের গোড়ায় ব্যথা হতে পারে এবং এর পর হঠাত্ করেই আক্রান্ত পাশের চোখ বন্ধ করতে, কথা বলতে, কপাল কুচকাতে বা উপরে তুলতে, থুথু ফেলতে, পানি পান করতে, খাবার দাবার চিবাতে অসুবিধাসহ মুখ এক দিকে বেকে যেতে পারে। চিকিত্সা যেহেতু এটি স্নায়ুবিক সমস্যা সৃষ্ট মাংস পেশীর অবশতা তাই এর চিকিত্সার মুখ্য ভূমিকা হলো ফিজিওথেরাপি। এ রোগে আক্রান্ত হলে আপনি প্রথমে একজন নিউরো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মত প্রয়োজন বোধে স্টেরয়েড, ভিটামিন এবং তার পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়ে ফিজিওথেরাপি চিকিত্সা নিতে হবে। ফিজিওথেরাপি চিকিত্সায় সাধারণত: ইলেক্ট্রিক নার্ভ ইস্টিমুলেশনসহ পদ্ধতিগত চিকিত্সা যেমন- ব্যায়াম ও ম্যাসেজ উপকারী। যে সকল ব্যায়াম করতে হবে ১. জোড় করে চোখ মারার চেষ্টা করা ২. শিশ বাজানোর চেষ্টা করা। ৩. ঠোঁট চেপে ধরে গাল ফুলানোর চেষ্টা করা। ৪. কপাল কুচাকানো। ৫. ভ্রু কুচকানো ইত্যাদি। এছাড়াও শক্ত খাবার আক্রান্ত গালে খেতে হবে এবং অতিরিক্ত ঠান্ডা খাওয়া বা লাগানো পরিহার করতে হবে। এ সমস্ত রোগীর চিকিত্সা ক্ষেত্রে বিশেষ ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ ফিজিওথেরাপি নিতে হয়। মনে রাখতে হবে ফিজিওথেরাপি চিকিত্সা ফেসিয়াল প্যারালাইসিস রোগের একমাত্র এবং মূল চিকিত্সা।