কক্সবাজারের ছেলে মমিনুল হক সৌরভ এলাকাবাসীর ভালবাসায় সিক্ত হয়ে এবার গ্রামের বাড়িতে অন্য রকম ঈদ করলেন। চট্টগ্রাম টেস্ট শেষে সরাসরি বাড়ি আসেন তিনি। সোমবার রাত ১টার দিকে তিনি যখন কক্সবাজার শহরের বৈদ্যঘোনাস্থ নিজবাড়িতে এসে পৌঁছান, তখন শত শত লোক রাস্তায় দাঁড়িয়ে তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছিল। চট্টগ্রাম টেস্টে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮১ রান করার পর কক্সবাজারে তার ভাবমূর্তি বদলে গেছে। তার কক্সবাজার আসার খবরে আত্মীয়-স্বজন, ক্রীড়ামোদী ও উত্সুক লোকজন তার বাড়িতে ভিড় করে।
মমিনুল হক সৌরভের বাড়ি কক্সবাজার শহরের বৈদ্যঘোনায়। তার বাড়ির নাম ‘হক নিবাস’। বাবা নাজমুল হক একজন চাকরিজীবী, মা মালেকা জয়নাব অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। ২ ভাই এক বোনের মধ্যে মমিনুল মেজ। বড় ভাই শাওন একজন ব্যাংকার। ছোট বোন মুমু একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ পড়ছে। সকলেই বাবা-মার সাথে থাকে। মা দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত। তাকে প্রায়শ থাকতে হয় শয্যাশায়ী হয়ে। কিন্তু ছেলের খেলা দেখতে তিনি হুইল চেয়ারের সাহায্যে ওঠে বসেন। গত ঈদে (ঈদুল ফিতর) মমিনুল দেশের বাইরে থাকায় পরিবারের সাথে ঈদ করতে পারেননি। কিন্তু এবারের ঈদের আনন্দ পরিবারের সাথে ভাগাভাগি করেন। ঈদের মাত্র একদিন আগে গভীর রাতে কক্সবাজারে পৌঁছান মমিনুল। ঈদের পরদিন ঢাকার উদ্দেশ্যে কক্সবাজার ছাড়েন। মাত্র ৩ দিন কক্সবাজারে থাকার সুযোগ পান মমিনুল। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধব বেষ্টিত হয়ে ছিলেন সারাক্ষণ। নিজের এবং আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি ছাড়াও কক্সবাজার জেলা স্টেডিয়ামে এবং সমুদ্র সৈকতে সময় কাটিয়েছেন মমিনুল। পথে পথে ছিল উষ্ণ অভ্যর্থনা। চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের রীতিমত ঘাম ঝড়িয়ে অভিষেক শতকের দেখা পান। স্পর্শ করেন দেড়শত রানের মাইলফলক। মাত্র ১৯ রানের জন্য ডাবল সেঞ্চুরি ছুঁতে না পারলেও এটাই টেস্টে বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।
