প্রতি বছর কোরবানীর ঈদের পরের দিন বসে দু’দেশের মানুষের মিলন মেলা। বিএসএফ ও বিজিবির সহযোগিতায় এবারও সেই মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে কিন্তুু আইনের অনুশাসন মানুষের পিঁপাসা মেটাতে পারেনি।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটায় মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার খাসমহল ও তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তে বসেছিল মিলন মেলা। মেলায় গিয়ে দেখা গেছে, কাটাতারের বেড়া দু’দেশের ভাষা সংস্কৃতিক আর আত্মীয়তার বন্ধন বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি। আত্মীয়তার টানে বাংলাদেশী ও ভারতীয়রা স্বজনদের দেখার জন্য নানা প্রান্ত থেকে জড়ো হয়েছিল। পরস্পরের সাথে আলিঙ্গন করতে না পারলেও কেউ কেউ বেড়ার ফাঁকে হাত গলিয়ে স্বজনদের আদর করতে পেরেছে। কেউ কেউ কোরবানির মাংস ও মিষ্টিও দিতে পেরেছেন। যারা পারেনি তাদেরকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়তেও দেখা গেছে।
ভারতের বাঁশবাড়ীয়ার নিতাই চন্দ্রের মেয়ে রাণী বালা এসেছিল কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে। ১৫ বছর পর পেলো বাবার সাক্ষাত। রানীবালা কান্না জড়িত কণ্ঠে জানালো, বাবাকে জড়িয়ে ধরে একটু কাঁদতে চেয়েছিলাম তাতো দুরের কথা একটু ছুঁয়েও দেখতে পারলাম না। দুর থেকে বাবাকে দেখে তৃষ্ণা মেটে নাই। অর্থ ও সময়ের অভাবে পাসপোর্ট করেও যেতে পারিনা। গাংনী খাসমহলের ছকিনা বেগমের বাবা-মা ও ভাইবোন থাকেন ভারতের মুরুটিয়ায়। দশ বছর পর তাদের দেখা পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তাঁদের জন্য কোরবানির মাংসসহ আরো কিছু উপহার এনেছিল কিন্তু কাঁটা তারের বেড়া তাঁকে সে সুযোগ দেয়নি।
