লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিল চালুর দাবি

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৩১
উপজেলার গোদনাইলে অবস্থিত শত বছরের পুরাতন ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিল পুরোদমে চালু হলে প্রায় ১২ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। কর্তৃপক্ষ কয়েকবার মিলটি চালুর পদক্ষেপ নিলেও স্থানীয় একটি মহলের কারণে তা সম্ভব হয়ে উঠছে না। আর এজন্য মিলটি চালু করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে কর্তৃপক্ষ। ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ও ১৯৩১ সালে উত্পাদনে আসা লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলটি একসময় দেশীয় সুতোর চাহিদা মিটিয়ে দেশের বাইরেও রফতানি করতো। হাজার হাজার মানুষের পদচারণায় মুখরিত ছিল মিলটি। কালের বিবর্তনে বিদ্যুতের লোডশেডিং, মালিকানা পরিবর্তন, পুরনো মেশিনের উত্পাদন দিয়ে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারা ও নানান জটিলতার কারণে একসময় সরকার মিলটি বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে ২০০০ সালে শ্রমিকরা তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট মিলটি চালু করার আবেদন জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রমিকদের দুঃখ লাঘব ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষে পাঁচশ’ দশজন শ্রমিকের নিকট নামমাত্র মূল্যে মিলটির শেয়ার বিক্রি করে মিল চালুর সিদ্ধান্ত দেন। অত্যাধুনিক মেশিনের অভাবে ঐ সময় মিলটি পুরোপুরি চালু করতে পারেনি শ্রমিকরা। একসময় শ্রমিকরা মিলটির মালিকানা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১২ সালে নিট কনসার্ন গ্রুপ তাদের শেয়ার কেনা শুরু করে। নামমাত্র মূল্যে মিলটির ক্রয়কৃত শেয়ার দু’লাখ পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। টাকা পেয়ে তিন মাসের মধ্যে মিল খালি করে দিবে বলে শ্রমিকরাও লিখিত প্রতিশ্রুতি দিলেও নানা টালবাহানা করে কিছু লোক মিলের জায়গা ছাড়ছে না। মিলটি নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। মিলটির পরিচালক মনির হোসেন বলেন, আমরা আশা করছি মিলটি চালু হলে দুই শিফটে ১২ হাজার শ্রমিক কাজ করতে পারবে। তিনি বলেন, পাঁচশ’ দশজনের মধ্যে চারশ’ আশিজনকে দু’লাখ পাঁচ হাজার টাকা করে তাদের শেয়ারের দাম দেয়া হয়েছে। তবে এক শ্রেণীর স্বার্থান্বেষী লোকের খপ্পরে পড়ে তারা তাদের কথা রাখছে না। ফলে নতুন আঙ্গিকে মিলটি চালু করতে সমস্যা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হাজী সামসুদ্দীন প্রধান বলেন, মিলটি চালু না করলে মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হবে মিল এলাকা। আর চালু হলে দুই শিফটে প্রায় ১২ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে।