বিনোদন কেন্দ্রে আনন্দের ঢেউ

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৪০
ঈদের তৃতীয় দিনে গতকাল রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে আছড়ে পড়ে আনন্দের ঢেউ। ঈদে যারা ঢাকার বাইরে যেতে পারছেন না, তাদের জন্যও বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে মহানগরীতে। ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর চিড়িয়াখানা, শিশুপার্ক, শিশুমেলা, ফ্যান্টাসি কিংডম, জাতীয় জাদুঘর, বলধা গার্ডেন, আহছান মঞ্জিল, লালবাগ কেল¬া, জাতীয় সংসদ ভবন চত্বর, সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ, নন্দন পার্কসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। শিশুদের সবচেয়ে আনন্দের জায়গা হলো শিশু পার্ক। বর্তমানে এখানে ১১টি রাইডস রয়েছে। প্রত্যেক রাইডসে চড়ে শিশুরা আনন্দ উপভোগ করছে। শিশুপার্কের উল্টোপাশে জাতীয় জাদুঘরে একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। দেশের প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক, সংগ্রাহক ও প্রদর্শক এ জাদুঘর। এখানেও শুক্রবার প্রচুর ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। রাজধানীর চিড়িয়াখানায় ঈদের দিন ও ঈদের পরের দিন দেখা গেছে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। এখানে অনেকে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে আসেন। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও সাদা পোশাকধারী ডিবি, র্যাব, পুলিশ বিভিন্ন নিরিবিলি ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে টহলরত অবস্থায় আছেন। রাজধানী ও ঢাকার পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে বিভিন্ন বয়সের মানুষ চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করে আনন্দ উপভোগ করেন। বর্তমানে এখানে প্রাণি সংখ্যা ২০ হাজার ৫০টি। ঢাকার অদূরে সাভারের আশুলিয়ায় রয়েছে ফ্যান্টাসি কিংডম, আর জিরানীতে নন্দন পার্ক। ঈদের আনন্দ পরিবারের সবাইকে নিয়ে উপভোগ করতে উল্লেখযোগ্য এই থিম পার্ক দু’টি। এই পার্কগুলোতে রোমাঞ্চকর ও মজাদার রাইড ছাড়াও ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীদের কথা বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ বিশেষ প্রমোশনের ব্যবস্থা রেখেছে। এর মধ্যে আকর্ষণীয় কনসার্ট শো, ড্যান্স শো, ডিজে শো ও এ্যাক্রোবেটিক শো। শিশুদের জন্য ঈদ উত্সবকে আরও রঙিন করতে বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়েছে নানা ধরনের মাসকাট, যা অফুরন্ত আনন্দ দিচ্ছে শিশুদের’। উল্লেখিত ভ্রমণ স্পট ছাড়াও ঈদের ছুটিতে বিনোদন পাগল মানুষের ভিড় দেখা গেছে সাভারের জাতীয় স্মৃতি সৌধ, ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান, বলধা গার্ডেন, আহসান মঞ্জিল, জাতীয় সংসদ ভবনসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে। ঈদের রঙে রঙিন বিনোদনকেন্দ্রগুলো : প্রতিটি ঈদেই রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো সাজে নবরূপে। নতুন রঙে রঞ্জিত এসব বিনোদনকেন্দ্র আরো রঙিন করে তোলে শিশুরা। এসব স্থানে সব বয়সী মানুষের ভিড় জমলেও সিংহভাগ শিশুরা। শাহবাগের শিশুপার্ক, মিরপুরের চিড়িয়াখানা, শ্যামলীর শিশুমেলা ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র। ঈদের কারণে চিরচেনা ঢাকা অনেকটাই ফাঁকা। কিন্তু সেই চিত্রের রেশ পাওয়া যায় নি বিনোদনকেন্দ্রগুলোর সামনে বা তার আশেপাশের এলাকাগুলোতে। সকাল দশটায় শিশুপার্কের গেট খুলে দেয়ার পর থেকেই শিশুপার্কের ১১টি রাইডেই চড়তে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে শিশুরা। শিশুদের সাথে আসা অভিভাবকরা শিশুদের সাথে ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে গেলেও সন্তানদের হাসি মুখ দেখে যেন একেবারেই ভুলে যান কষ্টের কথা। শুধু শিশুপার্কই নয় মিরপুর চিড়িয়াখানা, শ্যামলীর শিশুমেলা, স্বামীবাগের ওয়ান্ডারল্যান্ড, চন্দ্রিমা উদ্যান, রমনা উদ্যান, ধানমন্ডি লেক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, গুলশান পার্কসহ পাড়া-মহল্লার বিভিন্ন মেলায় ছিল শিশুদের সরব উপস্থিতি। ঈদে শিশুদের আনন্দ থাকে সবচেয়ে বেশি। কিন্তু বড়রাও তাদের চেয়ে কোন অংশে কম ছিলো না। যানজট কবলিত, ভিড়ে ভরা তিলোত্তমা ঢাকা ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। পাল্টে গেছে নগরীর চেহারা। যারা এই সময়ে ঢাকাতেই থেকে গেছেন ফাঁকা এই পরিবেশ তারা অনেকেই বেশ উপভোগ করছেন। ঈদের দিন থেকেই নগরীর রেস্টুরেন্ট, বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে মানুষের আনাগোনা ছিল বেশ। বিশেষ করে ঈদের খুশির জোয়ারে ভাসতে দেখা গেছে তরুণ-তরুণীদের। রিকশা, গাড়ি বা মোটরসাইকেল নিয়ে ঢাকার সুনসান রাজপথে দল বেঁধে দাপিয়ে নিজেদের আনন্দের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন তারা।