গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী গ্রেফতার

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৪৮
রাজধানীর হাতিরপুলে কামরুন্নাহার লিমা নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সকালে লিমার শ্বশুরের বাসা থেকে লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের দাবি, যৌতুকের দাবিতে লিমাকে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। স্ত্রীর উপর নির্যাতন এবং হত্যার অভিযোগে স্বামী ফজলুর রহমান টুটুলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কলাবাগান থানার একজন এসআই জানান, হাতিরপুল ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ৩৬৩/৩ নম্বর মামনি ভিলায় লিমা তার স্বামী এবং শাশুড়ির সঙ্গে বসবাস করতেন। গতকাল সকাল ১১টার দিকে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় তার মৃতদেহ উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা। লিমা আত্মহত্যা করেছেন নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে এ ব্যাপারে পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে লিমার স্বামী ফজলুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতের বাবা খন্দকার মতিউর রহমান আব্বাস জানান, লিমার শাশুড়ি ও ননদ যৌতুকের জন্য নির্যাতন করতেন। তাদের দাবি অনুযায়ী স্বর্ণালংকার, থালা বাটিসহ বাসার অর্ধেক জিনিস দেয়া হয়েছে। তাদের বাড়ির তৃতীয়তলার ফ্ল্যাট নির্মাণের জন্য টাকা দেয়া হয়েছে। এরপরও তারা লিমাকে নির্যাতন করতেন। মতিউর রহমান দাবি করেন, লিমাকে নির্যাতনের পর হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখেছিল তার স্বামী ও শাশুড়ি। লিমার ভাই সাঈদ বলেন, আট বছর আগে লিমা পরিবারের অমতে ফজলুর রহমানকে বিয়ে করেন। পরে পরিবার তাদের বিয়ে মেনে নেয়। কিছুদিন পর জানা যায়, ফজলুর নেশাগ্রস্ত। বিয়ের পর থেকেই নেশার টাকার জন্য লিমাকে নির্যাতন করতেন ফজলুর। বিভিন্ন সময়ে যৌতুক হিসাবে ফজলুর রহমানকে চার লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। তবুও তার নির্যাতন বন্ধ হয়নি। এক বছর আগে ফজলুর রহমান লিমার মাথা ফাটিয়ে দেয়। ওই ঘটনায় কলাবাগান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। সর্বশেষ শুক্রবার রাত ১০টার দিকে লিমা বাবাকে ফোন করে জানায়, ফজলুর তাকে খুব মারধর করছে। হাতের আঙ্গুল কেটে দিয়েছে। তখন বাবা বলেছিল, সকালে তাকে ঐ বাড়ি থেকে নিয়ে যাবে। লিমার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ফতেহপুর গ্রামে। তিনি এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে বড় ছিলেন। তার ছয় বছরের এক ছেলে আছে।