শেয়ারবাজারে মৌলভিত্তির প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যাংকিং খাতের শেয়ারে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করে বড় অঙ্কের লোকসানের মুখে পড়েছেন। গোটা বাজারেই দরপতন হলেও এ খাতের শেয়ারগুলোর পতন হয়েছে ভয়াবহ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা বেশি থাকলেও গত আড়াই বছর ধরে ব্যাংকগুলো ভালো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। ব্যাংকগুলোর মুনাফা কমে যাওয়ায় প্রায় সব ব্যাংকেরই লভ্যাংশ কমে গেছে। এতে শেয়ারের দামও কমে যায় লক্ষণীয়ভাবে।
এর কারণ জানতে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি ভয়ঙ্করভাবে খারাপের দিকে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর মুনাফাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। জানা গেছে, ২০১০ সালের ধসের পর লোকসান কাটাতে অনেক বিনিয়োগকারী মৌলভিত্তির কোম্পানি হিসেবে ব্যাংকিং খাতের শেয়ারে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করেন। কিন্তু বাজারে অব্যাহত দরপতনের সাথে সাথে ব্যাংকগুলোর দাম কমেছে সবচেয়ে বেশি হারে। তাছাড়া এ ব্যাংকগুলোর লভ্যাংশ প্রদানের হারও কমেছে। ২০১১ সালের চেয়ে ২০১২ সালে লভ্যাংশ প্রদান ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়েছেন। ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে ২০১২ সালে ১৪টির মুনাফা অনেক কমে গেছে। ৪টি প্রতিষ্ঠানের মুনাফায় তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। বাকিগুলোর মুনাফা বাড়লেও খুবই সামান্য।
ডিএসই’র তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে একটি ব্যাংক মুনাফা করেছে ১৩৯ কোটি টাকা, তখন ব্যাংকটির শেয়ারের সর্বনিম্ন দর ছিল ২৫ টাকা। এর আগের বছর ব্যাংকটির ছিল ৩৯৮ কোটি টাকা। সে সময় ব্যাংকটির শেয়ারের সর্বনিম্ন দর ছিল ৩৭ টাকা। ২০১২ সালে অপর একটি ব্যাংকের মুনাফা হয়েছে ৮৩ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ১৬৬ কোটি টাকা। এদিকে মুনাফা কমার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর লভ্যাংশের পরিমাণও ব্যাপকভাবে কমে গেছে। বেশিরভাগ ব্যাংকই লভ্যাংশ দিয়েছে ১০ থেকে ২৫ শতাংশের মধ্যে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকগুলোর অনিয়মের কারণেই মুনাফা কমেছে। এক সময় নিয়ম বহির্ভূতভাবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ, ঋণ প্রদানে অনিয়ম এবং শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকগুলোর মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
