নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার ৫০ শয্যার হাসপাতালটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। সমাধানের কোন উদ্যোগ না থাকায় দিন দিনই সমস্যার সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলছে। ফলে এখানকার জনগণ সুষ্ঠু চিকিত্সা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ৫০ শয্যা হাসপাতালে ১৭জন মেডিক্যাল অফিসার ও বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ কাগজে-কলমে আছেন মাত্র ৬ জন। ১৬ জন নার্সের মধ্যে আছেন ৩ জন। হাসপাতালে এনেসথেসিস্ট ও ল্যাব টেকনিশিয়ান না থাকায় বছরের পর বছর ধরে সিজারিয়ান সেকশান প্রোগ্রাম বন্ধ হয়ে আছে। ফলে গর্ভবতী মায়েদের সিজারিয়ান কার্যক্রম সম্পন্ন করতে ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলা শহরে নিয়ে যেতে জনগণের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ ছাড়া প্যাথলজি বিভাগে লাখ লাখ টাকার মূল্যবান যন্ত্রপাতি সরকারিভাবে বরাদ্দ দেয়া আছে। অথচ ল্যাবরেটরী টেকনিশিয়ানের দু’টি পদ দু’বছর ধরে শূন্য থাকায় প্যাথলজি কার্যক্রমও বন্ধ। একমাত্র এক্সরে মেশিনটি ২০১০ সাল থেকে বিকল। মেডিক্যাল টেকনোলজি রেডিওগ্রাফির দায়িত্বে থাকা রহিছ উদ্দিন জানান, অনেক লেখালেখির পর ২০১১ সালে ঢাকা থেকে ইঞ্জিনিয়ার এসে মেশিন খুলে দেখতে পান ব্যাটারী ও কিছু যন্ত্রাংশের অভাব। পরে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠালে আজও অর্থ বরাদ্দ না থাকায় এক্সরে মেশিনটি বিকল হয়ে আছে। এম্বুলেন্সটির চারটি চাকাই দীর্ঘদিন ধরে বিকল।
হাসপাতালের নানা সমস্যা অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে নেত্রকোনা সিভিল সার্জন ডা. সাহিদ উদ্দিন আহম্মেদ স্বপন বলেন, সমস্যা অনেক, অভিযোগও অনেক। তবে ক্রমান্বয়ে সব কিছুর সমাধান করা হবে।
