অবশেষে গ্রাম ছাড়া হলো গৃহবধূ

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৩৭
থানায় অভিযোগ করেও পুলিশের পরামর্শে শেষ পর্যন্ত স্বামীর সংসার ছাড়তে হলো ফতোয়ার শিকার গৃহবধূ বেবি সুলতানার। জানা যায়, উপজেলার স্বজনপুকুর (বুন্দিপাড়া) গ্রামের জহির উদ্দিন শেখের ছেলে ফজলু শেখের স্ত্রী দুই সন্তানের জননী বেবি সুলতানাকে নষ্ট চরিত্রের অপবাদ দিয়ে গত ২০ মে সালিশ করে গ্রাম্য মাতব্বরেরা। সালিশে গৃহবধূকে ছয় মাসের জন্য গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়। এর কিছুদিন পর ঐ গৃহবধূ তার বাপের বাড়িতে চলে যান। গত ১৫ অক্টোবর শ্বশুর তার পুত্রবধূ বেবি সুলতানাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। মাতব্বরদের নির্দেশ অমান্য করে পুত্রবধূকে বাড়িতে আনার অপরাধে গত শুক্রবার রাতে আবারো সালিশ বসে গ্রামের পল্লী চিকিত্সক মাহাবুব আলম মুকুলের বাড়িতে। মাতব্বরদের নির্দেশ অমান্য করার অপরাধে শ্বশুর জহির উদ্দিনকে সালিশে উপস্থিত এক মুরব্বির পা ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করাসহ ২৪ ঘন্টার মধ্যে পুত্রবধূকে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়। এ ঘটনায় মাতব্বরদের ভয়ে গত শনিবার ভোরে ঐ গৃহবধূর স্বামী ফজলু শেখ স্ত্রীসহ পরিবারের লোকজনকে রক্ষায় ১১ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এদিকে স্বামী থানায় অভিযোগ দেয়ায় পুলিশই তাকে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বলায় বাধ্য হয়ে স্বামী ও সংসার ছেড়ে বাপের বাড়িতে চলে গেছেন ওই গৃহবধূ। থানার ওসি (তদন্ত) হরিদাস মহন্ত বলেন, ঐ গৃহবধূর স্বামীর অভিযোগেরভিত্তিতে ঐ গ্রামে গিয়ে মাতব্বরসহ গৃহবধূর সাথে কথা বলা হয়েছে। তার ওপর গ্রামের কয়েকজনের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে। তাদের অসত্ উদ্দেশ্য সফল না হওয়ায় গৃহবধূকে গ্রামছাড়া করার চেষ্টা করা হচ্ছে। গৃহবধূর নিরাপত্তার জন্যই তাকে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছে। পরে বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সুরাহা করা হবে।