প্রতি ঈদের মতো এবারের ঈদেও একাধিক অডিও অ্যালবাাম বের হলেও পুরোনো প্রবণতার প্রকট উদাহরণ হিসেবে একাধিক ডুয়েট গানের রিলিজ হয়েছে। আর এই প্রক্রিয়ায় এবারের ঈদে যেন ডুয়েট গানের বিস্ফোরণ দেখা দিয়েছে সর্বত্র। আর এই ডুয়েট গানের মহামারিতে শিল্পী প্রকাশকরা একটি কথায় ভাবছেন, তা হলো এই প্রক্রিয়ায় বোধ করি খুব সহজেই গান হিট করা যায়। কিন্তু সে আশায় গুড়ে বালির মতো করেই এই গতানুগতিক প্রক্রিয়ায় হিট গান বাজারে আসেনি, যা কি না সবার মুখে মুখে ফেরার মতো। তবে আশার কথা হলো এই ডুয়েট গানের মহামারিতে চলচ্চিত্রের গানগুলোই বেশি আলোচিত ও প্রশংসিত হচ্ছে। ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী’ চলচ্চিত্রে কবির বকুলের লেখা ও শওকত আলী ইমনের সুরে তাসিফ ও দিনাত জাহান মুন্নীর চমত্কার একটি ডুয়েট গান ‘ও প্রিয়’ নিজস্ব নান্দনিকতায় প্রশংসিত হয়েছে। বিশেষ করে তাসিফের কণ্ঠ চোখ বুজে বা শিল্পীর নাম না জেনে শুনলে মনে হয় শনু নিগম গাইছে। এই দ্বৈত গানে কণ্ঠ সহকণ্ঠ হিসেবে মুন্নীও গেয়েছেন অনবদ্য। এদিকে ‘ভালোবাসা জিন্দাবাদ’ চলচ্চিত্রে সুফি গায়কখ্যাত পারভেজের গাওয়া ‘খোদা জানে’ গানটিও এবারের ঈদের অন্যতম গান। সবচেয়ে বড় কথা হলো অডিও অ্যালবামের চেয়ে এখন চলচ্চিত্রের কিছু ভালো গানগুলোই দর্শক শ্রোতাদের নজর কাড়ছে। আর এই ডুয়েটের মহামারিতে এবারের অধিকাংশ মিশ্র অ্যালবামগুলোতেও একখানা সলো গান খুঁজে পাওয়া মুশকিল। আর এই ডুয়েট গানের মহামারিতে প্রকাশকদের কাছে কেউ সলো অ্যালবামের অফার নিয়ে গেলেও তা প্রকাশকের চাপে ডুয়েট অ্যালবামে পরিণত হচ্ছে। কিছুদিন আগে শহরের নতুন এক রক ব্যান্ডদল এক স্বনামধন্য প্রকাশকের কাছে গেলে সেই রক ব্যান্ডেও নতুন একটি মেয়ে নিয়ে ডুয়েট গান করানোর অনুরোধ আসে। ডুয়েট গানের এই ‘কলেরা বা ডায়রিয়া’ শুরু হয়েছে ঠিকই, কিন্তু বাজারে যেন পর্যাপ্ত স্যালাইন নেই। তাই যে যার মতো ডুয়েট কালচার শুরু করেছে। যাতে মানের বালাই নেই। আর এই গানের এই সহজলভ্যতা বা নিজ খরচে গান রিলিজের এই প্রক্রিয়ায় শিল্পীরা নিজেই তাদের যোগ্যতা বা অযোগ্যতা প্রমাণ করা শুরু করেছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে সিডি চয়েজ, লেজার ভিশন, সঙ্গীতা ফাহিম মিউজিকই বরাবরের মতো এবারের ঈদের প্রতিনিধিত্ব করেছে। এর পাশাপাশি গেল ঈদে বেশ বড় বাজেটে ঈগল মিউজক কয়েকটি অ্যালবাম কিনে লোকসান গুনলেও এবারের ঈদে বেশ কিছু আনকোরা শিল্পীদের অ্যালবাম প্রচলিত প্রক্রিয়ায় বাজারে ছেড়েছে। অর্থাত্ গেল ঈদে মূলত তারা শিল্পীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে অ্যালবাম বের করার একটি প্লাটফর্ম তৈরির চেষ্টা করেছেন মাত্র। নিজের ফর্ম ভেঙে আরফিন রুমী ‘ওরে প্রিয়া’ অ্যালবামটিতে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করলেও নিজের ব্যক্তিগত নানান বিকৃত বৈচিত্র্যে অ্যালবামটি গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। বরাবরের নান্দনিকতায় প্রশংসিহ হয়েছে জুলফিকার রাসেলের লেখা সামিনা চৌধুরীর ‘চলো বাঁচি’ অ্যালবামটি। অগণিত ডুয়েটের মহামারির ভেতরে এবারের ঈদে এটি যেন প্রশস্তির অ্যালবাম। এটি প্রকাশ করেছে লেজার ভিশন। এদিকে সর্বাধিক অ্যালবাম রিলিজের দৌড়ে জি সিরিজ এগিয়ে থাকলেও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় শিল্পীরা চলে আসায় প্রকাশনাটি তার বৈচিত্র্য হারাচ্ছে ক্রমশ। আসিফ তার নিয়মিত গানে আসার কথা দিয়ে যেন খানিক তাড়াহুড়ো দুটি অ্যালবাম বাজারে ছেড়ে সেইভাবে রেসপন্স পাননি। তাই ন্যান্সির সাথে ‘ঝগড়ার গান’ অ্যালবামটিও ‘ঝগড়া’ শব্দটির মতোই ভ্রু কুঁচকানো ফলাফলে পৌঁছেছে। তবে এর ভেতরেই বেশ ক’জন নতুন কণ্ঠশিল্পী বের হয়ে আসবে তা বলাই বাহুল্য। যেখানে পুরোনো শিল্পীরা তাদের ক্রমাগত অভিমানে তাদের পুরোনো সম্পত্তি ভাগ বাটোয়ারাতেই ব্যস্ত। সেখানে অস্থিতিশীলতার ভেতরেও নতুন শিল্পীরা সেই শূন্যস্থানের সুযোগে যথেচ্ছাচার করবে এটাই স্বাভাবিক। তবে প্রতি ঈদে অডিও অ্যালবামের যে রাজত্ব ছিল। সেই বালিঘড়ি ঘুরে এখন আবারও চলচ্চিত্রের গানের অ্যালবামের রাজত্বই যেন আসতে শুরু করেছে। কারণ অডিও বাজার এখন পুরোটাই একই ঢঙের ডুয়েট গানের মহামারিতে আক্রান্ত! পর্যাপ্ত স্যালাইন অর্থাত্ মৌলিক সুরের যেন বড়ই সংকট।
