নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তামিম রান করলেই কেউ না কেউ সেই ডানেডিন টেস্টের কথা আলোচনায় আনবেই। কালও প্রেসবক্স জুড়ে সেই আলোচনা চললো—এই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০০৮ সালে ডানেডিন টেস্টে জোড়া ফিফটি করে অভিষেক হয়েছিল তার। এই আলোচনার সঙ্গে আরেকটা কথাও মনে পড়ে গেল—সেবার অন্তত দ্বিতীয় ফিফটিটাকে সেঞ্চুরিতে পরিণত করতে না পারার দুঃখ নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন তামিম।
কে জানতো সেই ঘটনার পাঁচ বছর পর আরও একবার একই দুঃখ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হবে তাকে!
ব্যক্তিগত ৫ ও ১২ রানে এক ব্রেসওয়েলের বলেই দু দুবার ক্যাচ দিয়ে বেঁচে গেলেন তামিম। ধরেই নেয়া যায় দিনটা তার। এই দুই জীবন পাওয়ার পর দিনটা নিজের করে নিতে ঠিক যা দরকার তেমনভাবেই ব্যাট করছিলেন তামিম ইকবাল। তর তর করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন পঞ্চম টেস্ট সেঞ্চুরির দিকে। কিন্তু আবার সেই কাজ করে বসলেন তামিম; নেইল ওয়াগানারের বলে ক্যাচ তুলে দিলেন। এবার আর মিস হল না। দুরূহ এক ক্যাচ নিয়ে তামিমের স্বপ্ন আপাতত শেষ করে দিলেন কেন উইলিয়ামসন।
সেই সঙ্গে আপাতত থেমে গেল তামিমের ৪১ মাস ধরে চলা এক খরা ঘোচানোর চেষ্টা। ২০১০ সালের জুন মাসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যানচেস্টারে সেঞ্চুরি করার পর টেস্ট সেঞ্চুরি এক অধরা স্বপ্নই হয়ে রয়ে গেল তামিম ইকবালের জন্য!
তামিম ২০১০ সালের জোড়া সেঞ্চুরি করেই উইজডেনের বর্ষসেরা হয়েছিলেন। তারপর থেকে টেস্টে রান পাচ্ছেন না, তা নয়। বরং এই টেস্টের প্রথম ইনিংস পর্যন্ত ১১ টেস্টে ৩৩.৬১ গড়ে ৭০৬ রান করেছেন; এটা তার ক্যারিয়ার গড় ৩৭.৭৩-এর চেয়ে এমন কিছু কম নয়। এই সময়ে পাঁচটি ফিফটিও করেছেন। কিন্তু টেস্ট সেঞ্চুরি পাওয়া হচ্ছিল না তামিমের।
গতকাল যখন দুই জীবনের ধাক্কা কাটিয়ে ৯৫ রান পর্যন্ত তরতর করে চলে গেলেন, সেসময় মনে হচ্ছিল, অবশেষে খরাটা ঘুচবে। কিন্তু হায়! অফ স্ট্যাম্পের অনেক বাইরের বলে চালাতে গিয়ে স্লিপে দুর্দান্ত ক্যাচের শিকার হয়ে ফিরলেন। এমনভাবে তামিমকে ফিরতে দেখা কষ্টের ছিল, সেটা সংবাদ সম্মেলনে এসে তার সঙ্গী মার্শাল আইয়ুবও স্বীকার করে গেলেন।
দলের ম্যানেজার, সাবেক অধিনায়ক ও তামিমেরই চাচা আকরাম খানও বললেন, ব্যাপারটা খুব কষ্টের ছিল, ‘ও যেভাবে ব্যাটিং করছিল পরে, তাতে সেঞ্চুরিটা ওর পাওনা হয়ে গিয়েছিল। সেটা না পাওয়া নিঃসন্দেহে একটা আঘাত।’ তবে আকরাম একটা জায়গায় অন্তত আশা দেখতে পাচ্ছেন, ‘তামিম সেঞ্চুরি পায়নি, এটা ওর জন্য ও দলের জন্য হতাশার। কিন্তু একটা ব্যাপার ভালো যে, সে দারুণ ব্যাট করছে। এটা দলের জন্য ভালো ব্যাপার।’
তামিম ভালো ব্যাটিং তো সবসময়ই করছেন। কিন্তু এই ২০ ইনিংস, তিন বছর ধরে সেঞ্চুরি না পাওয়াটা এখন দুশ্চিন্তার ব্যাপার কী না? আকরাম খান দুশ্চিন্তাটা খুব লুকালেন না, ‘তামিম যে মাপের ব্যাটসম্যান, তাতে এর মধ্যে ওর একাধিক বড় ইনিংস খেলা উচিত ছিল। ব্যাপার হল, ও কিন্ু্ত রানেও আছে। ফলে কেন সেঞ্চুরি পাচ্ছে না, এটা বোঝা কঠিন। তবে একটা ব্যাপার ঠিক যে, ভালো রানে আছে ফলে যে কোনো সময় সেঞ্চুরিটা পেয়ে যাবে।’
সেটা হলে তামিমের মতোই খুশি হবে নিশ্চয়ই বাংলাদেশও।
