মুক্তিযোদ্ধা ইউনুছ আলী

পঁচাত্তরেও পাননি বয়স্ক ভাতার কার্ড

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০১৩, ২২:১৯
বয়সের ভারে চলতে পারেন না ৭৫ বছর বয়সী নিঃসন্তান ইউনূছ আলী। নেই কোনো সহায় সম্পত্তিও। গত কয়েকদিন আগে ভর্তি হন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। তার বাড়ি উপজেলার হোগলা ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামে। মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে যুদ্ধ করেছেন। ৪২ বছরেও মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় তার নাম উঠেনি। পাননি ভিজিডি, ভিজিএফ বা বয়স্ক ভাতার কার্ড। ইউনূছ আলী ১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান পুলিশে কনস্টেবল পদে যোগদান করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে তার গ্রামের মকবুল ও মিয়া বক্সকে সঙ্গে নিয়ে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিবপুর ক্যাম্পে যান। সেখান থেকে তাকে ঢালু প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে পাঠানো হয়। প্রশিক্ষণ শেষে আরও কয়েক জন পুলিশ সদস্যসহ তিনি রংপুর জেলার ফুলবাড়ি থানার তত্কালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অধীনে পুরো নয় মাস যুদ্ধ করেন। স্বাধীনতার পর ইউনুছ আলী আবার ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনে যোগদান করেন। ১৯৮০ সালে কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন তিনি। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় আর চাকরিতে যোগদান করতে পারেননি। এমনকি চাকরিবিধি লঙ্গিত হওয়ায় অবসরভাতা বা সরকারি কোনো আর্থিক সহায়তা তিনি পাননি। এ ব্যাপারে হোগলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ইসলাম উদ্দিন সরকার বলেন, ইউনূছ আলী যাযাবরের মত যেখানে-সেখানে বসবাস করায় তাকে সরকারি অনুদান দেয়া সম্ভব হয়নি। উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নিজাম উদ্দিন বলেন, ইউনুছ আলী প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। এরপরও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি না পাওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক।