ঠাকুরগাঁওয়ে ভয়াবহ নেশায় আসক্ত পথশিশুরা

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০১৩, ২১:১৫
বারো বছরের শিশু ফরিদ (ছদ্মনাম)। পরনে নোংরা শার্ট ও ছেড়া প্যান্ট। খসখসে ধুলোমাখা শরীর। হাত-পায়ের বিভিন্ন জায়গায় দগদগে ঘা। বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার এ বয়সেই শিশু ফরিদ আসক্ত হয়েছে ভয়াবহ এক নেশায়। জুতা-স্যান্ডেলের সোল জোড়া লাগানোর জন্য ব্যবহূত গাম বা আঠা দিয়ে বিশেষ উপায়ে নেশা করে ফরিদ। শুধু ফরিদ নয় তার বন্ধু সবুজ, মানিক, রাজ্জাক, রাসেল, নয়ন, মেহেদি আর তাদের মতো অসংখ্য ছিন্নমূল শিশু এখন প্রতিদিন জুতার গাম দিয়ে নেশা করছে। এ গাম বা আঠা একটি পলিথিনের ব্যাগে ভরে বাতাস দিয়ে ফুলালে সৃষ্টি হয় তীব্র গন্ধযুক্ত গ্যাসের। আর সে গ্যাস মুখ দিয়ে টেনে ফুসফুসে নেয়ার সাথে সাথেই শুরু হয় ভয়াবহ নেশা। নেশাসক্ত ফরিদ জানায়, পৌর শহরের খালপাড়ার একটি বস্তিতে থাকে সে। সারাদিন ময়লা আবর্জনার স্তুপ ঘেটে প্লাস্টিকের বোতল, ভাঙা কাঁচ, লোহা বা টিনের টুকরো যা পায় তা বিক্রি করে কোন রকমে দিন কাটে । নেশার জন্য ব্যবহূত প্রতি কৌটা গামের দাম ৪৫ থেকে ৭০ টাকা। তাই নেশার টাকা যোগাড় করতে প্রায়ই চুরি করতে হয় তাকে। নেশা না করলে কষ্ট হয় ফরিদের। আর নেশা করলে ভালো লাগে। ফরিদ জানায় এ নেশায় খরচ কম। সহজে পাওয়া যায়। কিনতে গেলে কেউ সন্দেহও করে না। তাই তার মত অসংখ্য ছিন্নমূল পথশিশু এখন এ নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ আবার গাঁজা, হেরোইনেও আসক্ত বলে জানায় ফরিদ। আর নেশার টাকা জোগাড় করতে তারা নানা রকম অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। তাই এসব অসহায় শিশুকে বাঁচাতে সরকারি-বেসরকারি সংগঠন এগিয়ে আসবে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।