আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না অস্ট্রেলিয়া

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৩, ২০:৫৪
অস্ট্রেলিয়ায় দাবানল নিয়ন্ত্রণে তিন হাজারের অধিক দমকল বাহিনী কাজ করলেও খারাপ আবহাওয়ার কারণে নিজ সাউথ ওয়েলেস জুড়ে এটা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি যে আরো খারাপ হবে তা উল্লেখ করে গ্রামীণ ফায়ার সার্ভিসের প্রধান সেন ফিসিমমোনস বলেন, এতে আরো জীবনহানি ও বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। যদিও আগাম আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার এখানে একশ’ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইছে এবং উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বিরাজ করছে। রাজ্যে ৫৯টি দাবানল এখনো জ্বলছে। এদের মধ্যে ১৯টিকে এখনো নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। ইতিহাসে বৃহত্তম অগ্নিকাণ্ডে সিডনীর পশ্চিমাঞ্চলের ব্লু পর্বতমালায় শত শত ফায়ার ব্রিগেড স্থাপন করা হয়েছে এবং হাজার হাজার দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ঐ এলাকা জরুরিভাবে ছেড়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে এবং নার্সিংহোমের শত শত মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে এবং এলাকার সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রবিবার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে নিউ সাউথ ওয়েলসের মুখ্যমন্ত্রী ব্যারি ও’ফ্যারেল বলেন, এর মাধ্যমে জরুরি বিভাগগুলো পরিস্থিতি মোকাবেলায় আগামী ৩০ দিন বাড়তি কিছু ক্ষমতা ভোগ করবে। এরমধ্যে প্রয়োজনে গ্যাস ও বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ক্ষমতা অন্যতম। তিনি বলেন, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে ভাল কিছু হবে। গত কয়েকদিনের দাবানলে নিউ সাউথ ওয়েলসের ৩৭ হাজার হেক্টরের বেশি বন এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন ধোঁয়া এবং ছাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম শহর সিডনির আকাশ ঢাকা পড়ে গেছে। দাবানলে জ্বলছে সিডনির পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত ‘দ্য ব্লু পর্বতমালা’ অঞ্চল। এলাকাটি উচ্চ তাপমাত্রার অঞ্চলগুলোর অন্যতম। রাজ্যের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত ৪০ বছরের মধ্যে তারা সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে চলেছেন। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, শীতের পর অসময়ে গরম আবহাওয়া শুরু হওয়ায় এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। তাপমাত্র ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে এবং এটা আরো বাড়বে বলে জানিয়েছেন তারা। একটি প্রশিক্ষণ চলার সময় বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহারের মাধ্যমে এই আগুনের সূত্রপাত ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার সেনাবাহিনী বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। গত বুধবার ব্লু পর্্বতমালা অঞ্চলের লিথগ্রো শহরের কাছে ঐ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।