ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লরা ফ্যাবিয়াস মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সঙ্গে সাক্ষাতে ফ্রান্সের নাগরিকের ওপর ‘অগ্রহণযোগ্য’ গোয়েন্দাগিরি চালানোর ব্যাখ্যা চেয়েছেন। ফ্রান্সের সংবাদপত্র লা মন্ডে সোমবার এক প্রতিবেদনে বলেছে, আমেরিকা ২০১২ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ফ্রান্সের প্রায় সাত কোটি মানুষের ফোনে যোগাযোগ পর্যবেক্ষণ করেছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ফোন করে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন বন্ধু ও মিত্রদের মধ্যে এ ধরনের গোয়েন্দা কর্মকাণ্ড চালানো অগ্রহণযোগ্য। খবর বিবিসি, সিনহুয়া ও রয়টার্সের।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসএ) পরিচালক জেমস ক্ল্যাপার লা মন্ডের ওই রিপোর্টটিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ফ্রান্সের নাগরিকের টেলিফোন কথোপকথন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য সংগ্রহের অভিযোগটি মিথ্যা। তবে ওয়াশিংটন ও জাতিসংঘে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূতের ওপর গোয়েন্দা নজরদারির অভিযোগ সম্পর্কে কোন মন্তব্য তিনি করেননি। অন্যদিকে ফ্রান্সের নাগরিকদের ফোনে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার আড়িপাতার খবরে ক্ষুব্ধ হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে প্যারিস। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা এডওয়ার্ড স্নোডেনের ফাঁস করা তথ্যের ভিত্তিতে ফ্রান্সের ‘লা মন্ডে’ পত্রিকা ফরাসি নাগরিকদের ওপর মার্কিন গোয়েন্দাদের আড়িপাতার অভিযোগ করেছে।
এ সম্পর্কিত খবরে দৈনিকটি জানায়, ব্যবসায়িক নানা কর্মকাণ্ড ছাড়াও বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং সন্ত্রাসী সন্দেহে বহু নাগরিকের ওপর চলেছে গোপন এ নজরদারি। ফ্রান্সের ভেতরের নাগরিকদের একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়াও ফ্রান্সের সঙ্গে অন্যান্য দেশের যোগাযোগের ওপরও নজরদারি চলেছে। বছরের পর বছর ধরে ই-মেইল, টেক্সট মেসেজ, টেলিফোন ও ইন্টারনেট ব্রাউজিং রেকর্ড জমা করা হয়েছে বলেও জানানো হয় পত্রিকাটির খবরে।
