নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৪১
নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ করে একটি নির্যাতনমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। এই কর্মপরিকল্পনা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্যে গতকাল উদ্বোধন করা হয়েছে ‘ন্যাশনাল সেন্টার অন জেন্ডার বেইজড ভায়োলেন্স’। সেন্টারটির উদ্বোধন করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনিস এম্বাসেডর হ্যানে ফোগাল এসকেয়ার। মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তরের ৪র্থ তলায় ‘ন্যাশনাল সেন্টার অন জেন্ডার বেইজড ভায়োলেন্স’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই সেন্টারটি কর্মপরিকল্পনার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন ও নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করবে এবং অদূর ভবিষ্যতে সহিংসতা মুক্ত সমাজ গঠনে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বুধবার সকালে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এসব কথা বলেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তারিক উল ইসলাম ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম-এর পরিচালক আবুল হোসেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময়সীমা ২০১৩ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত। ২০১২ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত ভিত্তি বছর হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং পরবর্তী বছরগুলো নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার ধরন ও মাত্রার উপর মূল্যায়ন করে গৃহীত কার্যক্রমের প্রভাব পর্যালোচনা করা হবে। পরিকল্পনাটি মোট সাতটি অধ্যায়ে প্রণয়ন করা হয়েছে। ন্যাশনাল সেন্টার অন জেন্ডার বেইজ্ড ভায়োলেন্স-এর মূল কার্যক্রমগুলো হলো—কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ এবং সার্বিক সহায়তা প্রদান করা। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কার্যক্রম সংক্রান্ত নীতি প্রণয়ন ও কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা। নির্যাতন প্রতিরোধে নতুন আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন এবং বিদ্যমান আইনসমূহের সময়োপযোগী সংশোধন এবং পরিমার্জনের জন্য সুপারিশ গ্রহণ করা। জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করা। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ সম্পর্কিত বিষয়ে গবেষণার উদ্যোগ গ্রহণ করা। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে প্রায়োগিক গবেষণা পরিচালনা করা। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচি/প্রকল্পের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা। জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা। জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে তথ্যপ্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের তথ্য ও উপাত্ত হালনাগাদকরণ এবং ডাটাবেইজে সংরক্ষণ করা।