যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের সম্পর্কে যখন টানাপোড়েন চলছে ঠিক এমনই একটি মুহূর্তে পাকিস্তানে চালকবিহীন বিমান (ড্রোন) হামলা বন্ধ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। গত বুধবার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নওয়াজ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে একথা বলেন। এছাড়া তাদের এ দীর্ঘ আলোচনায় দু’দেশের ঝুলে যাওয়া সম্পর্ককে আরো জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এ দুই নেতা।
হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত আলোচনায় কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরাজমান শীতল সম্পর্কের বিষয়টিও প্রাধান্য পায়। নওয়াজ বলেন,“আমি আমাদের বৈঠকে ড্রোন হামলার বিষয়টি উপস্থাপন করেছি এবং এই ধরনের হামলা বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছি।” ওবামা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান এখনও একে অন্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এদিকে কাশ্মীরে ভারতীয় সীমান্তে পাকিস্তানী সৈন্যরা বেশকিছু গুলি ও মর্টার থেকে শেল নিক্ষেপ করেছে বলে অভিযোগ করেছে ভারত। এতে ভারতীয় এক সীমান্তরক্ষী নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছে আরো ৬ জন বলে গণমাধ্যমের দেয়া তথ্যে জানানো হয়েছে। এই ঘটনার কয়েকঘন্টা পরই ওভাল অফিসে এ দুই নেতার বৈঠক বসলো। ওদিকে বৈঠক শেষে যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ওবামা উল্লেখ করেছেন সেগুলোর মধ্যে অবশ্য কাশ্মীরের এই ঘটনার কথা ছিল না। তবে ‘ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কয়েক দশক ধরে চলা উত্তেজনা কমিয়ে আনার জন্য বিচক্ষণ একটি উপায় অন্বেষণের বিষয়ে আলোচনার’ জন্য নওয়াজ শরিফের প্রশংসা করেছেন ওবামা।‘ দু’দেশের উত্তেজনা নিরসনে সেনাবাহিনীর পেছনে কোটি কোটি ডলার খরচ করা হয়েছে। কিন্তু এই অর্থ যদি দেশ দু’টির শিক্ষা, সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পে ব্যয় করা হত, তবে শুধু উপমহাদেশ নয় পুরো বিশ্বই এর ভালো ফল ভোগ করতে পারত- নওয়াজের উদ্দেশে বলেন ওবামা। তার প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানী প্রধানমন্ত্রী তার মন্তব্যে বলেন, আমরা ভারতের সাথে একটি সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলবো। এছাড়া কাশ্মীরসহ দু’পক্ষের মধ্যকার সকল বিবদমান ইস্যুগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করার প্রচেষ্টা চালানো হবে বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ।
দু’বছর আগে পাকিস্তান সরকারকে কোনো ধরনের পূর্বাভাস না দিয়ে উত্তর-পূর্ব পাকিস্তানের সামরিক শহর অ্যাবোটাবাদে আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের গোপন আস্তানায় আক্রমণ চালিয়ে তাকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ডো বাহিনী। বিষয়টি ভালভাবে নেয়নি পাকিস্তান। এরপর থেকে ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের সম্পর্কের অবনতি হয়। বৈঠকের পর ওবামা স্বীকার করেন, উত্তেজনা এবং ভুল বোঝাবুঝি দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরো খারাপ করে তুলেছে। “এটি একটি চ্যালেঞ্জ এবং সেটা সহজ নয়। আমরা একসঙ্গে কাজ করার জন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছি এবং নিশ্চিত করতে হবে এটি দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির চাইতে যেন স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করতে পারে। হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে পরে এক বিবৃতিতে জানানো হয়,“প্রতিরক্ষা সম্পর্কের বিষয়ে অর্জিত ইতিবাচক মনোভাবের কারণে দু’দেশের নেতাই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।”
