মির্জাপুুরে সড়ক নির্মাণ কাজ বন্ধ

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০১৩, ২১:১২
অর্থের অভাবে মির্জাপুর উপজেলার মির্জাপুর-ওয়ার্শি-বালিয়া ১১ কিঃ মিঃ রাস্তার নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। ৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে । অপর দিকে রাস্তা নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ হলেও জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের প্রায় ৩৫ কোটি টাকা না দেয়ায় মালিকদের মধ্যে পুষ্টকামুরি গ্রামের বাসিন্দা এ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন মনিসহ দুই ব্যক্তি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক , সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী ,উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ও মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন । ফলে বিপুল টাকা ব্যয়ের এ সড়কে নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে রাস্তার কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে টাঙ্গাইল,মানিকগঞ্জ ও ঢাকা এই তিন জেলার হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। ভাঙ্গাচোরা ও কাদামাক্ত রাস্তায় জীবনের উপর ঝুঁকি নিয়ে লোকজন যাতায়াত করছে। জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের ভাদগ্রাম, ওয়ার্শি, আনাইতারা , ভাওড়া ও বহুরিয়া ইউনিয়ন এবং পার্শ্ববর্তী জেলা ঢাকা ও মানিকগঞ্জ জেলাবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবি এই সড়কটি পাকা করণের। এলাকাবাসী জানায় ১৯৭৪ সালে জাতির জনক বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবর রহমান মির্জাপুরে এস কে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক জনসভায় এলাকাবাসীর দাবির মুখে সড়কটি দ্রুত পাকা করার ঘোষণা দেন। কিন্ু্ত পরবর্তীতে এই সড়কের নির্মাণ কাজ স্থগিত হয়ে যায়। অপর দিকে ২০১২ সালের শেষ দিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ মির্জাপুর-ওয়ার্শি-বালিয়া সড়কটি নির্মাণের জন্য দুইটি প্যাকেজে দরপত্র আহবান করে । দরপত্রে সড়কটির নির্মাণের জন্য কাজ পায় মেসার্স মার্ক এম এন মল্লিক এন্ড কোম্পানি লিঃ। ঠিকাদারী সংস্থাটি কাজ পাবার পর তিনি আবার কাজ দেন সাব ঠিকাদার মোরাদ সিদ্দিকী এবং তার লোকজনকে। দুই প্যাকেজে সড়কটি নির্মাণের জন্য ৯ ফুট উঁচু এবং উপরে ২৬ ফুট চওড়া করার নকশা থাকলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে । এ ছাড়া কিছু কাজ করার পর অর্থের অভাবে ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দেয়। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কাজ হবে কিনা তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে । এ ব্যাপারে মেসার্স মার্ক এম এন মল্লিক এন্ড কোম্পানির ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম জলিল বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দুটি প্যাকেজের মাধ্যমে আমরা কাজ করছি। তবে অর্থের অভাবে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।