মান্না দে’কে শেষকৃত্যে না পেয়ে অভিমানী কলকাতা

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৩, ২১:১৬
কলকাতা যেন আজ ফুসছে মান্না দে’র শেষ কৃত্য না করতে পারার অভিমানে। সকল শিল্পী, সাহিত্যক, কলাকুশলীদের একই অভিমত—কেন কলকাতার গানের প্রাণকে ব্যাঙ্গালুরে দাহ করা হবে। কিন্তু মান্না দে কন্যা সুমিতার সিদ্ধান্তমতে কলকাতাতে শিল্পীর শেষকৃত্য হলো না। কারণ হিসেবে সুমিতার বক্তব্য, ‘আমার বাবা অসুস্থ থাকা অবস্থায় বাবার ব্যাংক লকার থেকে আমার এক আত্মীয়ের যোগসাজসে টাকা ও স্বর্ণালংকার সরানো হয়েছে। আমরা রাজ্য সরকারের কাছে এ বিষয়ে বিচার চেয়েছিলাম। তার কোনো সুরাহা হয়নি। আমার বাবাকে দেখেনি রাজ্য। এ কারণেই সেই রাজ্যে আমার বাবার শেষ কৃত্য হতে পারে না।’ ‘কিন্তু শুধু একটি পরিবারের নন মান্না দা, মান্না দে গোটা বাংলার। যেখানে গোটা বাংলা মান্না দে’কে চেয়েছিলেন যে, কলকাতায় তার শেষ কৃত্য হোক। সেখানে কেনো এইরকম সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো তার নিন্দা জানাই।’ এমনভাবেই নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়’। ব্যাথাতুর কলকাতা তাই শেষকৃত্যের ভাগিদার না হতে পেরে আজ বড়ই অভিমানী। মোবাইলে সুমিতার সাথে কথা হলে তিনি জানান, ‘কলকাতায় বাবার চিতাভস্ম আনা হবে। আর দেখুন এখন হয়তো অনেক আনুষ্ঠানিকতা হবে। কিন্তু বাবার চিকিত্সার সময় ওই টাকাটা খুবই জরুরি ছিল। রাজ্যসরকার খুব ভালোভাবে দেখভাল করলে নিশ্চয়ই এর বিহিত করতে পারতেন। এরপরও বাবর চলে যাওয়ার পর কলকাতার অগণিত ভক্তদের জন্য বাবার স্মরণ সভায় আমি অংশ নেব।’ এভাবেই অভিমানের কথা জানালেন মান্নাদে কন্যা সুমিতা। এদিকে কলকাতার টিভি পাড়া স্টুডিও সব জায়গায় যেন মান্না দে প্রসঙ্গ উঠে আসছে। ঊষা উত্থুপের স্টুডিও ভাইব্রেশনে কথা হয় মান্না দে’র সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ রেকর্ডিষ্ট গৌতম বসু। তিনি জানালেন, ‘বড় প্রাণ খোলা মানুষ ছিলেন আমাদের মান্না দে। কোনো কিছু হলেই কলকাতার স্টুডিওতে কাজের জন্য ছুটে আসতেন। একবার একটা বড় একটা প্রজেক্টের রেকর্ডিং হবে। সেটা তিনি মুম্বাইতে রেকর্ড করে কলকাতায় ডাব করলেও পারতেন। কিন্তু তিনি সেটা না করে সোজা কলকাতায় স্টুডিও বুকিংয়ের জন্য আমায় ফোন দিলেন। সকল মিউজিশিয়ানদের খোঁজ করতে বললেন। অবাক হয়ে দেখলাম আমি তার কলকাতা প্রেম। এমন কোনো মাস যায়নি যে মাসে তিনি তার কলকাতায় আসেননি। তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলতে এখানে নিঃশ্বাস নিতে আসি রে। দেখ অনেক শিল্পী অন্য অনেক ভাষার গান গেয়ে তবে বাংলায় গেয়েছে। আমি বাংলাকে জয় করে তবে অন্যখানে গিয়েছি। তাই আমার কাছে কলকাতাটা অনেক কিছু।’ তার এই কথাতেই অনেক কিছু অর্থ বহন করে আমাদের জন্য। কিন্তু তার পারিবারিক সিদ্ধান্তের কারণেই হয়তো তার শেষকৃত্যের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবুও একজন মিউজিশিয়ান হিসেবে শেষ দেখা তাকে না দেখতে পারা, তার শেষকৃত্যে অংশ না নিতে পারার বেদনা অওেনক বড়। কণ্ঠশিল্পী শ্রীকান্ত বলেন, ‘এটা কোনোভাবেই মানতে পারছিনা যে, রাজ্য সরকারের একটি ব্যর্থতার কারণে বাংলার মান্না দে’র কাছ থেকে আমাদের বঞ্চিত করা হবে। এটা বড়ই দুঃখজনক। সন্ধ্যা শ্রীকান্তের মতো এমন অনেকেরই আক্ষেপের সুর বেজেছে মান্না দে’কে শেষ দেখা না দেখে। বার তার মেষ বিদায়ের অংশীদার না হতে পেরে। এর যে মান্নাদেকে ঘিরে গোটা কলকাতাার এক অপমান যা অভিমানে নীল হয়েছিল সবার কথায়, আড্ডায় আলাপে।